রোদের ছোঁয়ায় সুস্থ দীর্ঘায়ু
দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকা বা দীর্ঘায়ু পাওয়ার কথা উঠলেই সাধারণত পুষ্টিকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং গভীর ঘুমের কথাই বলা হয়।
তবে আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান ও দীর্ঘায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রচলিত অভ্যাসের বাইরেও আরেকটি প্রয়োজনীয় উপাদান প্রায়ই অবহেলা করা হয়, তা হলো ‘সূর্যালোক’ বা প্রতিদিন কিছুটা সময় রোদে কাটানো।
সঠিক নিয়ম মেনে পরিমিত মাত্রায় সূর্যের আলো গ্রহণ করা শরীরকে রোগমুক্ত রাখতে এবং গড় আয়ু বাড়াতে ঠিক ততটাই ভূমিকা রাখে, যতটা ভালো ডায়েট বা শরীরচর্চা করে থাকে।
জীবনযাপন-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘রিয়েল সিম্পল’-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ‘অ্যান্টি-এইজিং’ ও ‘রিজেনারেটিভ মেডিসিন’ বিশেষজ্ঞ ডা. সাবরিনা সোল্ট বলেন, “মানবদেহ প্রাকৃতিকভাবেই এমনভাবে তৈরি, যা সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে ভালো কাজ করে। হরমোন উৎপাদন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং শরীরের ভেতরের ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ নিয়ন্ত্রণ করতে সূর্যের আলো ভূমিকা রাখে। অতিরিক্ত রোদ ত্বকের ক্ষতি করলেও, পরিমিত ও কৌশলগতভাবে রোদ পোহানো দীর্ঘায়ুর জন্য প্রয়োজনীয়।”
কতক্ষণ রোদে থাকা নিরাপদ ও উপযুক্ত?
যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসা কেন্দ্র ‘নেক্সট হেলথ’-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং মার্কিন শল্যচিকিৎসক ডা. দর্শন শাহ মন্তব্য করেন, “বিবর্তনের ইতিহাস অনুযায়ী মানুষ এক সময় সারাদিনই রোদের মধ্যে পার করত। তবে আধুনিক যুগে বদ্ধ ঘরে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার ফলে অধিকাংশ মানুষই এখন প্রয়োজনীয় সূর্যালোক থেকে বঞ্চিত। তাছাড়া, বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরের পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিকর ইউভিবি রশ্মির প্রকোপ বেড়েছে, যা ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।”
- ট্যাগ:
- লাইফ
- দীর্ঘায়ু জীবন
- রোদ