You have reached your daily news limit

Please log in to continue


ই-রিকশা বিধিমালা: নিরাপত্তার সমাধান, নাকি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের ফাঁদ

শহরের রাস্তায় ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। যানজট, অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, দুর্ঘটনা ও সড়কের সীমিত জায়গা—সবই বাস্তব সমস্যা। কিন্তু কোনো সমস্যা বাস্তব হলেই তার সমাধান হিসেবে যেকোনো বিধিনিষেধ ন্যায্য হয়ে যায় না। বিধিনিষেধের লক্ষ্য হওয়া উচিত নিরাপত্তা, সুশৃঙ্খল চলাচল ও যাত্রীর অধিকার নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে গণপরিবহনের ঘাটতি এবং হাজারো নিম্ন আয়ের মানুষের জীবিকার বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হবে। সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬ এই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এতে নিবন্ধন, রুট, ফিটনেস ও প্রযুক্তিগত মানের কাঠামো আছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অনেক জায়গায় অস্পষ্টতা, অতিরিক্ত প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ এবং নাগরিক সুরক্ষার ঘাটতি রয়ে গেছে।

প্রথমেই বিধিমালার বয়সসংক্রান্ত ভাষা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিধি ৪ (১) (খ)-তে ‘অনূর্ধ্ব ১৮ বছর’ শব্দবন্ধ থাকলে তার আক্ষরিক অর্থ দাঁড়ায় ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যক্তি। যদি উদ্দেশ্য হয়ে থাকে চালকের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর, তবে এটি গুরুতর খসড়াগত ভুল। আইন প্রয়োগের আগে গেজেটের মূল পাঠ যাচাই করে স্পষ্ট সংশোধনী জারি করা জরুরি। আইনটির শুরুতেই এমন অস্পষ্টতা থাকলে সাধারণ চালক, নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ ও প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে ভিন্ন ব্যাখ্যা তৈরি হতে পারে।

আরও মৌলিক সমস্যা হলো, যানবাহনের নিবন্ধন, মালিকের পরিচয় এবং চালকের যোগ্যতা—তিনটি আলাদা বিষয়কে আলাদা করে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। একটি রিকশা কার নামে নিবন্ধিত, কে সেটি চালাবেন, চালকের প্রশিক্ষণ ও অনুমোদন কীভাবে যাচাই হবে—এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ উত্তর না থাকলে নিবন্ধনব্যবস্থা কাগজে থাকবে, কিন্তু সড়কে সেসবের বাস্তবায়ন হবে না। মালিকের নামে নিবন্ধন থাকলেই যে চালক দক্ষ, তা নিশ্চিত হয় না। আবার একজন চালক একাধিক মালিকের যান চালালে তার যোগ্যতা কীভাবে যাচাই হবে, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে।

বিধিমালায় কিউআর কোডযুক্ত পরিচিতি, নম্বর প্লেট, ফিটনেস সনদ এবং জোনভিত্তিক চলাচলের কথা আছে। এগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কিন্তু বিধি ১০-এ প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও চালকের বাধ্যতামূলক লাইসেন্স বা স্বতন্ত্র অনুমোদন, লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষা, প্রশিক্ষণের মান, নবায়ন এবং অযোগ্য চালককে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট করা হয়নি। চালক যদি ট্রাফিক সংকেত, পথচারীর অগ্রাধিকার, স্কুল ও হাসপাতাল এলাকার গতি, রাতের অবস্থা এবং দুর্ঘটনার পর সহায়তার রূপ সম্পর্কে স্পষ্ট না থাকে, তাহলে শুধু নম্বর লাগিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না।

প্রশিক্ষণ যেন আনুষ্ঠানিকতা না হয়, সে জন্য পাঠ্যক্রম, অনুমোদিত প্রশিক্ষণকেন্দ্র, পরীক্ষার মান এবং ডিজিটাল রেকর্ড প্রকাশ করতে হবে। প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষার খরচও সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন। চালককে দক্ষ করার বদলে অতিরিক্ত কাগজপত্রের বোঝা চাপালে তিনি নিয়মের বাইরে থেকে যেতে পারেন। নিরাপদ পরিবহনের জন্য দরকার দক্ষতা যাচাই; অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক চাপ যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সেটারও নিশ্চয়তা দরকার।

নিবন্ধন ফিও যৌক্তিক হওয়া প্রয়োজন। বিধিমালা অনুযায়ী, দুই যাত্রীর যান নিবন্ধনে ৮ হাজার, চার যাত্রীর যান নিবন্ধনে ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি যথাক্রমে ৪ হাজার ও ৫ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে। এর সঙ্গে ফিটনেস ফিও যুক্ত আছে। প্রশাসনিক ব্যয়, পরীক্ষার খরচ, সেবা দেওয়ার মান এবং চালকের আয় বিবেচনায় ফি নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, বিধিমালায় তার ব্যাখ্যা নেই।

শহরের বহু চালক নিজের মালিকানার যান চালান না; দৈনিক ভাড়ায় চালান। কেউ ঋণ নিয়ে যান কিনেছেন, কেউ পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী। উচ্চ ফি অনিয়ন্ত্রিত ব্যবসা ঠেকানোর বদলে দরিদ্র চালককে অনানুষ্ঠানিকতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। ফি অবশ্যই থাকতে হবে, কিন্তু তা অবশ্যই আয়ের ওপর ভিত্তি করে, কিস্তির মাধ্যমে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া দরকার। এভাবে চাপিয়ে দেওয়া ফি নির্ধারণ করে দরিদ্র চালককে নিবন্ধনের আওতায় আনা যাবে কি না, তা নিয়ে ভাবা দরকার।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন