বদলে যাওয়া গণমাধ্যমে সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ কী

প্রথম আলো কামাল আহমেদ প্রকাশিত: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১১

অনেকেই প্রশ্ন করেন, সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের ভবিষ্যৎ কী? এ প্রশ্নের উৎস হচ্ছে, প্রধানত: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অভূতপূর্ব প্রসারের কারণে তথ্যপ্রবাহের ওপর প্রচলিত গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব আলগা হতে থাকা। ইন্টারনেট আর মুঠোফোনের সুবাদে নির্দিষ্ট সময়ে টেলিভিশনের সামনে গিয়ে বসা বা সকালে খবরের কাগজের জন্য অপেক্ষার দিন গত হয়েছে। ঘটনা, দুর্ঘটনা বা অঘটন ঘটার মুহূর্তের মধ্যেই সে খবর ছবি বা ভিডিও সহ বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।


মুঠোফোনের স্মার্ট সংস্করণ আসার পর থেকে অনেকেই বলতে শুরু করেন, এখন নাগরিক সাংবাদিকতার প্রসার ঘটবে। অনেক প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যম ক্রাউডসোর্সিং হিসেবে পরিচিত পদ্ধতি, অর্থাৎ সাধারণ মানুষের তোলা ছবি ও ভিডিওর ব্যবহার শুরু করল। ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি গবেষণা নিবন্ধে বলা হয়েছিল, ২০০৯ সালের পর থেকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বার্তাকক্ষগুলো দ্রুততম সময়ে খবর সংগ্রহ এবং বিতরণ উভয় কাজের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে কীভাবে আত্মস্থ করা যায়, তার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।


বাংলাদেশে আমরা একটু দেরিতে এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে বাধ্য হয়েছি। অনেক সময়েই খবরের গুরুত্ব নির্ধারিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায় তার গতিপ্রকৃতি দেখে। ফলে বার্তাকক্ষের সম্পাদকীয় গরিমা অনেকটাই খর্ব হয়েছে। ইদানীং অবশ্য এতে যোগ হয়েছে এআইয়ের সাহায্যে তৈরি ভুয়া আধেয় বা কনটেন্টের চ্যালেঞ্জ।


প্রযুক্তিনির্ভর এই রূপান্তরের ফলে অনেকের ধারণা অবাধ তথ্যপ্রবাহের ধারা শক্তিশালী হয়েছে এবং সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা খানিকটা কমেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যাণে ব্যক্তিগতভাবে পেশাদার সাংবাদিকদের কেউ কেউ যেমন প্রাতিষ্ঠানিকতার বাইরে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন, তেমনি অপেশাদার লোকজনও বিপুলসংখ্যায় অনুসারী তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছেন।


তবে যেকোনো তথ্যের সত্যাসত্য যাচাই-বাছাই ও জনস্বার্থ বিচারের প্রাতিষ্ঠানিক সম্পাদকীয় ব্যবস্থার বাইরে এসব প্রভাবশালীদের জনপ্রিয়তা এবং সহজ আয়ের পথ প্রশস্ত হওয়ায় অপতথ্য ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর চর্চা এতটাই বেড়েছে যে এখন অ্যান্টিইনফ্লুয়েন্সার বা ডিইনফ্লুয়েন্সার আন্দোলন জোরদার হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে এই ডিইনফ্লুয়েন্সাররা বেশ সাফল্য দেখিয়েছেন এবং বিজ্ঞাপনদাতারা কথিত ইনফ্লুয়েন্সারদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে।


বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসার একটু দেরিতে ঘটায় প্রভাবশালীদের প্রতিরোধের কাজটা এখনো গতি পায়নি। তা ছাড়া বাংলাদেশিদের ওপর যেসব ইনফ্লুয়েন্সার প্রভাব খাটাতে সক্ষম তাঁরা বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকতার ক্ষেত্রে তেমন একটা সাফল্য পাননি। তাঁদের কাজ মূলত রাজনৈতিক এবং বিভিন্ন দল ও গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতাপুষ্ট।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একাধিক প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দঙ্গল তৈরির মাধ্যমে দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় পত্রিকা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘৃণ্য অপরাধে তাঁদের অপক্ষমতার নজির তৈরি হয়েছে।


অবাধ তথ্যপ্রবাহের ধারায় আরেকটি উপদ্রব বর্তমানে প্রকট রূপ নিয়েছে। নিয়মিত খবর প্রচারের প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংবাদিকেরা এখন প্রায় প্রতিটি ঘটনার খবর সংগ্রহের সময়ে অপেশাদার, শৌখিন এবং অনিয়মিত মুঠোফোন–নির্ভর খবর সংগ্রাহকদের ভিড় মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছেন।


সবচেয়ে বড় বিপত্তির কারণ ঘটছে তখন, যখন এসব অপেশাদার খবর সংগ্রাহকেরা খবর সংগ্রহ ও প্রচারের জন্য অর্থ আদায়ে লিপ্ত হচ্ছেন। এতে পেশাদার সাংবাদিকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং টাকা দিয়ে খবর কেনা সম্ভব—জনমনে এমন ধারণা তৈরির আশঙ্কা ঘনীভূত হচ্ছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও