ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি কেন?
বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর কোনো সাময়িক বা মৌসুমি জনস্বাস্থ্য সমস্যা নয়; এটি ক্রমেই একটি দীর্ঘস্থায়ী জাতীয় সংকটে রূপ নিচ্ছে। প্রায় ২৭ বছর ধরে ডেঙ্গু বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে চলেছে। প্রতিবছর বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে রোগটির প্রকোপ বাড়ে, হাসপাতালগুলোয় রোগীর চাপ সৃষ্টি হয়, অসংখ্য পরিবার প্রিয়জন হারায়।
এরপর কিছুদিন পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত হলে আমরা যেন আবার সবকিছু ভুলে যাই। পরবর্তী মৌসুমে একই চিত্র ফিরে আসে। প্রশ্ন হচ্ছে, এত বছর পরও আমরা কি ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারিনি? নাকি প্রতিবছর একই ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে ব্যর্থতার চক্রকেই দীর্ঘায়িত করছি?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৬৭ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৮ জন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ডেঙ্গুর সংক্রমণ মৌসুম এখনো শেষ হয়নি।
আমাদের গবেষণালব্ধ পর্যবেক্ষণ বলছে, নভেম্বর জুড়েও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির নিশ্চয়তা নেই। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে সংক্রমণ কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু অন্যান্য বছরের তুলনায় তা কতটা কমবে, সে বিষয়ে আশাবাদী হওয়ার যথেষ্ট কারণ নেই। ফলে বছরের শেষ পর্যন্ত নতুন সংক্রমণ এবং মৃত্যুঝুঁকি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ, ক্যালেন্ডারের বছর শেষ হলেই ডেঙ্গুর ঝুঁকি শেষ হয়ে যাবে, এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
- ট্যাগ:
- মতামত
- ডেঙ্গু
- ডেঙ্গুর লক্ষণ