রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়া বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও গর্ভবতী নারী—বিভিন্ন বয়সের মানুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। রক্তস্বল্পতার অন্যতম কারণ হলো শরীরে আয়রনের ঘাটতি, যা Iron Deficiency Anaemia (IDA) নামে পরিচিত।
হিমোগ্লোবিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো আয়রন। হিমোগ্লোবিন রক্তের মাধ্যমে ফুসফুস থেকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সেল অথবা টিস্যুতে অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ কমে গিয়ে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।
আয়রনের ঘাটতি অনেক সময় ধীরে ধীরে কয়েক মাস অথবা বছর ধরে তৈরি হয়। তাই আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন রোগটি বুঝতে পারেন না। সময়মতো রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে দৈনন্দিন কাজ, পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং সামগ্রিক জীবনযাত্রার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
নারী ও পুরুষের মধ্যে কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বাংলাদেশে আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে। তবে প্রজননক্ষম নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের মাধ্যমে রক্তক্ষরণ, অতিরিক্ত মাসিক, গর্ভাবস্থায় আয়রনের চাহিদা বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন গর্ভধারণের কারণে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কিশোরীদের দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি, মাসিক শুরু হওয়া এবং পুষ্টিকর খাবারের ঘাটতি আয়রনের চাহিদা ও ঘাটতির মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় গুরুতর রক্তস্বল্পতা মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।