You have reached your daily news limit

Please log in to continue


তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন কাঠামোর সন্ধানে

রাজনীতিবিদরা যেমন পরস্পরকে বিশ্বাস করেন না, তেমনি দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব বলেও মনে করেন না; এই অবিশ্বাসের জায়গা থেকেই ১৯৯৬ সালে সংবিধানে যুক্ত করা হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা। যদিও এই ব্যবস্থাটিও পরবর্তীকালে বিতর্কিত হয় এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতও এই পদ্ধতি বাতিল করে দিলে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানসংবলিত অনুচ্ছেদটি সংবিধান থেকে তুলে দেওয়া হয়।

কিন্তু দেখা গেল, আদালতের রায়ের দোহাই দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধান থেকে বাদ দিয়ে ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরপর যে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন করা হলো, সেগুলো আগের চেয়েও বেশি বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। মূলত সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পেরেছে। তৃতীয় মেয়াদ শুরুর কয়েক মাসের মধ্যেই চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের মুখে তাদের পতন হয়। এরপরই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নতুন করে আলোচনায় আসে। আদালতের রায়, জুলাই সনদ এবং বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে সংবিধানে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু এবারের আলোচনাটি ভিন্ন। সেটি হলো, এই ব্যবস্থা কি আগের মতোই হবে নাকি এর জন্য নতুন কাঠামো তৈরি করা হবে?

জুলাই সনদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের যে পদ্ধতি ও প্রক্রিয়া বলা হয়েছে, সেটি বেশ জটিল। সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিও এই জটিল পদ্ধতির পক্ষে নয়। বরং তারা দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যেসব বৈঠক করেছে, তাদের কাছেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন কোনো রূপরেখার প্রস্তাব চেয়েছে।

প্রশ্ন হলো, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য নতুন কাঠামো কেন লাগবে? আগে যে পদ্ধতিতে এই সরকার গঠিত হতো, সমস্যা কি সেই পদ্ধতিতে নাকি যারা এই সরকারের দায়িত্বে ছিলেন, তাদের যোগ্যতা, দক্ষতা, আন্তরিকতা ও নিয়তে গণ্ডগোল ছিল? বস্তুত কেন এবং কীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটি বিতর্কিত হলো এবং তার জন্য দায়ী কে—এর নির্মোহ উত্তর খুঁজলে সেটিও রাজনীতিবিদদের জন্য স্বস্তিদায়ক হবে না।

অনেক দিন ধরেই বলা হচ্ছে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতিকে রাখা উচিত নয়। কেননা যখনই সদ্য অবসরপ্রাপ্ত কোনো বিচারপতিকে এই সরকারের প্রধান করা হবে, তখনই ওই সময়ের সরকার প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিজেদের দলীয় আদর্শের এবং দলের প্রতি অনুগত কাউকে প্রধান বিচারপতির চেয়ারে বসাতে নানা ফন্দিফিকির করবে। যে ঘটনা দেশে এর আগে ঘটেছে। সে কারণে তত্ত্বাবধায়ক সরকারে বিচার বিভাগের কোনো ব্যক্তিকে না রাখার পরামর্শও দিয়েছেন অনেকেই। তাহলে বিকল্প কী?

১৯৯৬ সালে সংবিধানে এই বিধানটি যুক্ত করার আগে ১৯৯১ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেটির নাম তত্ত্বাবধায়ক সরকার না হলেও কার্যত এর কাজ ও গঠন একইরকম ছিল। তখন ওই সরকারের প্রধান ছিলেন বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ—যার হাত ধরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানরা ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি। কিন্তু এরপরে ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেনের মাধ্যমে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হয়—সেটি ছিল মূলত সেনা-নিয়ন্ত্রিত সুশীল সরকার। ওই সরকারের প্রধান ফখরুদ্দীন আহমদ ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে একটি নির্দলীয় পদ্ধতি বলা হলেও এই সরকারের অধীনে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর যে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেটিও পরবর্তীকালে বিতর্কিত হয়েছে। বরং বিচার বিভাগের কেউ এই সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যেসব নির্বাচন হয়েছে, সেগুলো সেনা-নিয়ন্ত্রিত এই সুশীল সরকারের চেয়ে কম বিতর্কিত হয়েছে। সুতরাং, এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের যে বিকল্প কাঠামোর প্রস্তাব চাওয়া হচ্ছে বা কেউ কেউ এরই মধ্যে যে প্রস্তাব দিয়েছেন, সেখানে বিচার বিভাগকে বাদ দিয়ে তারা কি সুশীলদের আনতে চান? তারাও বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে পারেননি। তাহলে কি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের নিয়ে এই সরকার গঠন করা উচিত? প্রশ্ন হলো, তারাও কি বিতর্ক ও প্রশ্নমুক্ত নির্বাচন করতে পারবেন? নাকি প্রতিটি সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাস সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে দেশ চলবে এবং তাদের অধীনে ভোট হবে? সেটি কি রাজনীতিবিদদের জন্য সম্মানজনক হবে? তাহলে বিকল্প কী?

গত ২৪ অক্টোবর দেশের বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপকদের সঙ্গে বিশেষ কমিটি যে বৈঠক করে, সেখানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া, আকার ও কর্মপরিধি নিয়ে একাধিক বিকল্প প্রস্তাব এসেছে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় সংসদের উচ্চকক্ষের ভূমিকা, স্পিকার বা ভাইস-প্রেসিডেন্টকে প্রধান করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা যায় কি না, একই সঙ্গে উচ্চকক্ষ গঠন এবং উচ্চকক্ষের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন প্রক্রিয়া রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে অনেকে মতামত দিয়েছেন। যদিও এই মুহূর্তে বাংলাদেশে উচ্চকক্ষ তথা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা আদৌ প্রয়োজন কি না—সেটি অন্য তর্ক এবং সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে এরই মধ্যে বিভিন্ন ফোরাম থেকে এই প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। তবে এই সরকার কীভাবে গঠিত হবে, এর ক্ষমতা ও কার্যপরিধি কী হবে এবং কত দিনের জন্য দায়িত্ব পালন করবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, উচ্চকক্ষের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন প্রক্রিয়া রাখা যায় কি না; অথবা যদি বিকল্প থাকে, সেই ক্ষেত্রে বিরোধী দল ও সরকারি দলের সম্মতিতে নির্বাচিত স্পিকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করা যায় কি না—এরকম মতামতও এসেছে। তবে সবগুলো প্রস্তাব এলে কমিটিতে বসে রিপোর্ট প্রদানের সময় সেগুলো তুলে ধরবে কমিটি। (বাসস, ২৪ অক্টোবর ২০২৬)।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন