প্রবাসে নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড ও রাষ্ট্রের করণীয়

www.ajkerpatrika.com আবু তাহের খান প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:০৪

আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় রাষ্ট্র নিজেই তার নাগরিকদের অভিভাবক। তবে বাংলাদেশ একটি আধুনিক রাষ্ট্র কি না কিংবা এই রাষ্ট্রে গণতন্ত্র কতটা আছে অথবা আদৌ আছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। তারপরও মানতে হবে, অপরাপর অধিকাংশ আধুনিক রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশেও একটি সংবিধান আছে এবং সেখানে রাষ্ট্র কীভাবে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করবে, তার উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রের ওপর সে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব এত কঠোরভাবে অর্পণ করা হয়েছে যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিদের কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেই দায়িত্ব পালন না করলে বা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে কিংবা দায়িত্ব পালনের জন্য গৃহীত শপথ ভঙ্গ করলে, তজ্জন্য তাঁকে প্রয়োজনে জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা রয়েছে।


এখন দেখা যাক, অভিভাবকত্ব বলতে কী বোঝায়। বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী, অভিভাবক শব্দের অর্থ হচ্ছে তত্ত্বাবধায়ক, রক্ষক বা আশ্রয়দাতা। অর্থাৎ রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সংবিধান অনুযায়ী পরিচালনা করবে। তবে একই সঙ্গে তাঁদের রক্ষা করা এবং বিপদে, সঙ্কটে ও সমস্যায় তাঁদের আশ্রয়দানও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে লক্ষ করা যাচ্ছে, বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যাঁদের ওপর ন্যস্ত, তাঁরা বিপদের সময় নাগরিকদের বিপদ থেকে রক্ষা করবেন কিংবা অসহায় পরিস্থিতিতে তাঁদের আশ্রয় দেবেন, এমনটি দূরের কথা; তাঁরা উল্টো নাগরিকের বিপদ ও অসহায়ত্ব নিয়ে নিষ্ঠুর উপহাস, বিদ্রূপ ও কটাক্ষে মেতে ওঠেন। অথচ সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, ‘আইনের আশ্রয় লাভ এবং আইনানুযায়ী ও কেবল আইনানুযায়ী ব্যবহার লাভ যেকোনো স্থানে অবস্থানরত প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার এবং বিশেষত আইনানুযায়ী ব্যতীত এমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে না, যাহাতে কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ, সুনাম বা সম্পত্তির হানি ঘটে।’

সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র অঙ্গীকার করছে, আইনের আশ্রয় লাভ ‘যেকোনো স্থানে অবস্থানরত’ বাংলাদেশের ‘প্রত্যেক নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য অধিকার’। এই বিধান অনুযায়ী সৌদি আরবে অবস্থানকারী বাংলাদেশি নাগরিক সুইটি আক্তার ও নজরুল ইসলামের ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’ ছিল বিপদের সময় ও অসহায় অবস্থায় তাঁদের নিজ রাষ্ট্রের মাধ্যমে সকল আইনি সুযোগ ও সুরক্ষা পাওয়া। কিন্তু বাংলাদেশ জানতই না কী কারণে, কবে, কখন ও কীভাবে তাঁদের বিচার হয়েছে এবং সে বিচারের রায় হিসেবে কীভাবে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো। বাংলাদেশের কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দেশে বা দেশের বাইরে যেখানেই আনা হোক না কেন, সেই অভিযোগের বিচারকাজ চলাকালে ‘আইন অনুযায়ী ব্যবহার লাভের’ অধিকার রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ সুইটি ও নজরুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিচার বাংলাদেশের কোনো আদালতে হলে, তাঁরা যে আইনি সহায়তা লাভের অধিকার রাখতেন, সৌদি আরবের আদালতেও তাঁরা তা প্রাপ্য ছিলেন। কিন্তু ওই দুজনের মা-বাবা বা কোনো অভিভাবককে (প্রবাসী নাগরিকের ক্ষেত্রে নিজ রাষ্ট্রই তাঁদের অভিভাবক) বিষয়টি জানানো হয়নি বলে তাঁরা তাঁদের জন্য সেই আইনি সহায়তা প্রদান করতে পারেননি।

এই ত্রুটি প্রথমত অবশ্যই সৌদি আরবের। কিন্তু সৌদি আরব কি এরূপ ত্রুটিপূর্ণ আচরণ অন্যান্য দেশের নাগরিকদের সঙ্গেও করে? মনে হয় না। আর বাংলাদেশের কোনো আদালতে যদি কোনো সৌদি নাগরিকের বিচার করতে হতো, তাহলে বাংলাদেশ কি সেটি তাদের না জানিয়ে করতে পারত? কখনোই না। আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও কনভেনশন অনুযায়ী সেটি করা উচিতও নয়। তাহলে বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরব এমনটি করতে পারল কেন বা সেটি তারা করতে সাহসী হলো কেন? এ দেশের নতজানু ও তোষামোদপ্রবণ পররাষ্ট্রনীতির কারণেই কি? তার প্রতিফলন লক্ষ করা যায় এই সিদ্ধান্তে যে তাদের এরূপ অমর্যাদাকর আচরণ ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও হুতি, ইরানি ও অন্যান্য মুসলমানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার আশায় বাংলাদেশ মক্কা সামরিক জোটে যোগদানের জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছে। আর তার বিনিময়ে বাংলাদেশকে কিছু না জানিয়ে সৌদি আরব এ দেশের দুজন নাগরিকের বিচার করে ইতিমধ্যে তাদের শিরশ্ছেদ করে ফেলেছে।


এবার দেখা যাক সুইটি ও নজরুলের ব্যাপারে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভিভাবকেরা কী বলছেন। মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেছেন, ‘এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক, এটা কখনোই আশা করব না।’ পরে অবশ্য বক্তব্যটি তিনি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। ভাগ্যিস তিনি বলেননি যে প্রবাসীদের পাপের অর্থে উপার্জিত রেমিট্যান্স বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। যা হোক, তাঁর বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়, প্রকৃত তথ্য না জেনে বা ঘটনার আদ্যোপান্ত যাচাই-বাছাই না করে একই সঙ্গে তিনি তিনটি অপরাধ করেছেন—এক. নিজ নাগরিকদের তিনি ‘পাপী’ নির্ধারণ করে ফেলেছেন, যে কাজ আসলে স্রষ্টার; দুই. তাঁদের লাশ এ দেশে আনা যাবে কি না, সে বিষয়ে রায় দিয়ে ফেলেছেন, যে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর নয় বা সে অধিকারও তাঁর নেই; তিন. নিজ দেশের নাগরিককে পাপী আখ্যায়িত করে তিনি জনগণের প্রতি একজন জনপ্রতিনিধির নিষ্ঠুর ও অমানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে তুলে ধরেছেন। একটি রাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধি কতটা নিষ্ঠুর, নির্দয় ও অমানবিক হলে হত্যাকাণ্ডের শিকার দুজন নাগরিক সম্পর্কে তিনি প্রকাশ্যে এরূপ অপমানজনক ও ভর্ৎসনামূলক মন্তব্য করতে পারেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও