সাম্রাজ্যবাদের আগ্রাসন: দেশে দেশে বাড়ছে ‘পুতুল সরকার’

জাগো নিউজ ২৪ ডা. হারুন-অর-রশিদ প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৪:০৩

সাম্রাজ্যবাদ হলো একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র বা দেশ কর্তৃক অন্য কোনো দুর্বল দেশ বা অঞ্চলের ওপর সামরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা সাংস্কৃতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার নীতি বা প্রক্রিয়া। সহজ কথায়, যখন কোনো শক্তিশালী দেশ নিজের সীমানার বাইরে গিয়ে অন্য কোনো দেশের স্বাধীনতা হরণ করে এবং সেখানে নিজের শাসন বা প্রভাব বিস্তার করে, তখন তাকে সাম্রাজ্যবাদ বলা হয়।


আমরা জানি, সাম্রাজ্যবাদীদের লক্ষ্য হলো দুর্বল অঞ্চল দখল করে সেখানে নিজেদের উপনিবেশ বা কলোনি তৈরি করা। বিজিত দেশের সম্পদ, কাঁচামাল এবং বাজার নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করা। স্থানীয় শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া অথবা এমন পুতুল সরকার বসানো, যা শক্তিশালী দেশের ইশারায় চলে। আধুনিক বিশ্বে সরাসরি সামরিক দখলদারত্বের চেয়ে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সাম্রাজ্যবাদ বেশি দেখা যায়। বড় বড় আন্তর্জাতিক সংস্থা, বহুজাতিক কোম্পানি এবং অর্থনৈতিক ঋণের ফাঁদে ফেলে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এর অন্যতম উদাহরণ।


দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমদিকে জড়ায়নি, কিন্তু পরবর্তীকালে ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি সমর্থন, বাণিজ্যিক স্বার্থ, পার্ল হারবার আক্রান্ত হওয়া ইত্যাদির মধ্য দিয়ে আমেরিকা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। যুদ্ধে আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেটা ইউরোপীয় মিত্রদের তুলনায় অনেক কম। আমেরিকার চার লক্ষাধিক মানুষ জীবন দিয়েছেন, ছয় লক্ষাধিক আহত হয়েছেন। পার্ল হারবার আক্রান্ত হলে স্থাপনাগুলোর ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু তারপরও ইউরোপীয় মিত্রদের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি কমই ছিল। অন্যদিকে, ইউরোপ হয়েছিল একেবারে বিপর্যস্ত। এই যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা যেমন অংশগ্রহণ করেছেন, তেমনি সামরিক ও অর্থ-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও আমেরিকার ভূমিকা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


তবে একটি প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি—জাপানের হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলা আদৌ যৌক্তিক ছিল কি না? না! এর মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক বোমার বিধ্বংসী ক্ষমতার একটি পরীক্ষা চালায় মাত্র এবং যুদ্ধে তার উপস্থিতি শক্তভাবে সামনে নিয়ে আসে।


অন্যদিকে, আফ্রিকা, এশিয়া ও লাতিন আমেরিকায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জয়জয়কার অবস্থা তৈরি হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই। ভারতে ১৯৪৬ সালের নৌবিদ্রোহ তেমনই একটি ঘটনা। বোঝা গিয়েছিল, ভারতীয়রা ব্রিটিশের শাসন-শোষণ আর মেনে নেবে না। অনুরূপ অবস্থা ছিল বিভিন্ন দেশে। আমেরিকার শাসকশ্রেণি এটা খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারে যে সরাসরি ঔপনিবেশিক শাসনের দিন শেষ। তারাই ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটানোর জন্য। এর মানে এই নয় যে আমেরিকানরা শাসন-শোষণের অবসান চেয়েছে। তারা বরং নতুন ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে আসে—অর্থলগ্নির মাধ্যমে শোষণ চালু করে বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। পরবর্তীকালে এই ব্যবস্থাই নয়া-উপনিবেশিক ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত হয়। পুরোনো উপনিবেশের অবসান মানে যুদ্ধ শেষ নয়। কারণ, মার্কিন অর্থনীতির একটি বড় হাতিয়ার হলো সমরাস্ত্রের ব্যবসা। তাই যুদ্ধ তাদের প্রয়োজন। অন্যদিকে, নয়া-উপনিবেশিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখারও একটি উপায় হলো যুদ্ধ।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও