সোনা নাকি সোনার মানুষ—কোনটা বেশি দামি?

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৫১

একজন মানুষ মারা গেলেন। তাঁর ঘরে হয়তো খুব বেশি সোনা ছিল না, ব্যাংকে বড় অঙ্কের টাকা ছিল না, শহরের বুকে একাধিক বাড়িও ছিল না। কিন্তু জানাজায় মানুষের ঢল নামল। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এল। কেউ বলল, ‘তিনি আমার বিপদের দিনে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।’ কেউ বলল, ‘আমার চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।’ কেউ বলল, ‘আমার সন্তানকে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন।’ কেউ আবার শুধু চোখ মুছতে মুছতে বলল, ‘মানুষটি খুব ভালো ছিলেন।’


মৃত্যুর পর তাঁর আলমারি খুললে হয়তো কয়েক ভরি সোনাও পাওয়া গেল না। কিন্তু মানুষের স্মৃতিতে যে সম্পদ তিনি রেখে গেলেন, তার কোনো বাজারদর নেই। অন্যদিকে, বিপুল সোনা-সম্পদের মালিক একজন মানুষ মারা গেলেন। তাঁর ব্যাংক হিসাব আছে, জমি আছে, অলংকার আছে, ব্যবসা আছে। উত্তরাধিকারীরা বসে হিসাব করলেন—কত সম্পদ কার ভাগে যাবে। কিন্তু কিছুদিন পর তাঁর নাম হয়তো আর কেউ মনে রাখল না।


এখানেই জীবনের এক অদ্ভুত প্রশ্ন সামনে আসে—সোনা কি বেশি দামি, নাকি সোনার মানুষ?


অর্থনীতির হিসাব বলবে, সোনার দাম নির্ধারিত হয় বাজারে। কিন্তু মানুষের মূল্য নির্ধারণ করে বাজার নয়; নির্ধারণ করে তাঁর চরিত্র, কর্ম, মানবিকতা এবং অন্যের জীবনে তাঁর রেখে যাওয়া প্রভাব। সোনা চকচকে, মূল্যবান এবং দুষ্প্রাপ্য। কিন্তু সোনা কাউকে সান্ত্বনা দেয় না, ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ায় না, অসুস্থ বন্ধুকে হাসপাতালে নিয়ে যায় না, অন্যায়ের প্রতিবাদ করে না। সোনা সম্পদ হতে পারে, কিন্তু সম্পদ নিজে কোনো নৈতিকতা তৈরি করে না। মানুষই সম্পদের ব্যবহারকে অর্থবহ করে।


এই জায়গাটিই আমাদের সময়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এমন এক সমাজে বাস করছি, যেখানে মানুষের মূল্যায়নে অর্থ, পদ, গাড়ি, বাড়ি, পোশাক, প্রতিষ্ঠানের পরিচয় কিংবা সামাজিক অবস্থান ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে। একজন মানুষ কত আয় করেন, কী গাড়িতে চলেন, কোথায় থাকেন, সন্তান কোন প্রতিষ্ঠানে পড়ে—এসব প্রশ্ন অনেক সময় তাঁর চরিত্রের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এই প্রবণতাকে আরও দৃশ্যমান করেছে। কারও জীবনের সাফল্য এখন শুধু সাফল্য নয়; সেটি প্রদর্শনেরও বিষয়। নতুন গাড়ি, দামি ঘড়ি, বিদেশ ভ্রমণ, বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ, বড় বাড়ি—সবকিছুই যেন সামাজিক মর্যাদার প্রতীক। কিন্তু এই দৃশ্যমান সম্পদের আড়ালে একজন মানুষ কতটা সৎ, কতটা দায়িত্বশীল, কতটা সহানুভূতিশীল—সে প্রশ্নটি অনেক সময় অদৃশ্য থেকে যায়।


আমরা ভুলে যাচ্ছি, ধনবান হওয়া এবং মূল্যবান হওয়া এক কথা নয়। ধনসম্পদ থাকা অপরাধ নয়। বরং সৎ পথে অর্জিত সম্পদ ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের জন্য আশীর্বাদ হতে পারে। একটি উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন, একজন ব্যবসায়ী কর দিয়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন, একজন সম্পদশালী মানুষ হাসপাতাল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারেন। সমস্যা সম্পদে নয়; সমস্যা তখনই, যখন সম্পদ মানুষের মূল্যবোধকে গ্রাস করে ফেলে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও