You have reached your daily news limit

Please log in to continue


এইচএসসি পরীক্ষা: ফেল করা মানেই জীবনযুদ্ধে হেরে যাওয়া নয়

এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী তাদের কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করেছে, কেউ প্রত্যাশার চেয়ে কম ফল করেছে, আবার কেউ হয়তো অকৃতকার্য হয়েছে। যারা ভালো ফল করেছে, তাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আর যারা প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি কিংবা অকৃতকার্য হয়েছে, তাদের প্রতি রইল আমার আন্তরিক সহমর্মিতা।

তবে তোমাদের উদ্দেশে একটি কথা বলতে চাই, ভেঙে পড়ার কোনো কারণ নেই। মনে রেখো, জীবনের পথচলায় ভালো ফল একটি অবলম্বন হতে পারে, কিন্তু সেটিই একমাত্র অবলম্বন নয়। পরীক্ষার ফলাফল জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন, কিন্তু জীবনের সাফল্য নির্ধারণের চূড়ান্ত মাপকাঠি নয়।

একটু চারপাশে তাকিয়ে দেখো। তোমাদের অনেক সিনিয়র ভালো ফল করে নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছে, কেউ ডাক্তার হয়েছে, কেউ প্রকৌশলী হয়েছে, কেউবা উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি অর্জন করেছে। কিন্তু তাদের সবাই কি জীবনে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পেয়েছে? তাদের অনেকেই পড়াশোনা শেষ করে উপযুক্ত কর্মসংস্থান খুঁজে পাচ্ছে না। কেউ কেউ সামাজিক প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারার চাপ, লোকলজ্জা কিংবা হতাশায় নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছে। আবার এমন অনেক মানুষও আছে, যারা শিক্ষাজীবনে খুব অসাধারণ ফল করতে পারেনি, কিন্তু পরবর্তী জীবনে নিজেদের মেধা, দক্ষতা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তাহলে আজ যারা ভালো ফল করেছ, তাদের সবার জীবন যে ভবিষ্যতে প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়? আবার যারা আজ ভালো ফল করতে পারোনি, তাদের জীবন যে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে, সেই সিদ্ধান্তই বা কে দিল?

জীবন আসলে অনেকগুলো যুদ্ধের সমষ্টি। এইচএসসি পরীক্ষা সেই যুদ্ধগুলোর মধ্যে একটি মাত্র। এই একটি যুদ্ধে জয়ী হওয়া যেমন জীবনের সব যুদ্ধে জয়ী হওয়ার নিশ্চয়তা দেয় না, তেমনি একটি যুদ্ধে পরাজিত হওয়া মানেই পরবর্তী সব যুদ্ধে পরাজিত হওয়া নয়। পৃথিবীতে এমন অসংখ্য মানুষ রয়েছেন, যাঁরা জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে বড় ধরনের ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়েছেন, কিন্তু সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সময়ে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। তাঁদের অনেকেই আজ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে অনুকরণীয়, কেউ কেউ ইতিহাসেও অমর হয়ে আছেন।

একটি যুদ্ধে পরাজিত হলে একজন বিচক্ষণ যোদ্ধা যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়ে যান না। তিনি পরাজয়ের কারণ বিশ্লেষণ করেন, নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করেন, নতুন কৌশল তৈরি করেন এবং পরবর্তী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নেন। জীবনের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে কিংবা প্রত্যাশিত ফল না পেলে হতাশায় ডুবে না থেকে কেন এমন হলো, তা খুঁজে বের করতে হবে। প্রস্তুতিতে ঘাটতি ছিল কি না, পড়াশোনার পদ্ধতিতে সমস্যা ছিল কি না, সময় ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা ছিল কি না, এসব বিষয় পর্যালোচনা করতে হবে। তারপর নতুন উদ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

মনে রাখতে হবে, জীবনে সফল হওয়ার পথ একটিমাত্র নয়। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় ভালো ফল করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কিংবা ডাক্তার, প্রকৌশলী হওয়ার বাইরে আরও অনেক সম্ভাবনার জগৎ রয়েছে। কারিগরি শিক্ষা, উদ্যোক্তা হওয়া, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি, সৃজনশীল পেশা, ব্যবসা কিংবা দক্ষতাভিত্তিক নানা কাজের মাধ্যমে একজন মানুষ নিজের যোগ্যতা ও সামর্থ্যের পরিচয় দিতে পারে। প্রয়োজন নিজের আগ্রহ, সক্ষমতা ও সম্ভাবনাকে চিনে নেওয়া এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া।

আরও মনে রাখতে হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে শুধু সার্টিফিকেটের মূল্য ক্রমেই কমবে; বরং একজন মানুষ বাস্তবে কী জানে, কী পারে এবং কতটা দক্ষতার সঙ্গে কাজটি করতে পারে, সেটিই হবে তার যোগ্যতার প্রধান মাপকাঠি। সার্টিফিকেট–নির্ভর যোগ্যতার দিন ধীরে ধীরে ফুরিয়ে আসছে; সামনে দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতার দিন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন