পর্তুগালের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল আজোরেস দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে ছোট দ্বীপ কোরভো। বছরে একবার এই দ্বীপ পুরোপুরি অন্ধকারে ডুবে যায়। কোনো বিদ্যুৎ বিপর্যয় বা দুর্যোগের কারণে নয়, দ্বীপের প্রায় সাড়ে ৪০০ বাসিন্দা স্বেচ্ছায় বাতি নিভিয়ে দেন। টানা পাঁচ রাত তাঁরা এই অদ্ভুত আঁধারে ডুবে থাকেন। উদ্দেশ্য একটাই—সামুদ্রিক পাখির ছানাদের জীবন বাঁচানো।
আটলান্টিক মহাসাগরের স্থানীয় সামুদ্রিক পাখি ‘কোরিস শিয়ারওয়াটার’। সমুদ্রের উদ্দেশে প্রথম উড়াল দেওয়ার আগে ছানারা তিন মাস বাসায় কাটায়। ওড়ার সময় আকাশের তারার আলো দেখে দিক চিনে নেয়; কিন্তু সভ্যতার কৃত্রিম আলো এই পাখিদের জন্য বিপদ ডেকে আনে। রাস্তার আলোকে তারা আকাশের তারা ভেবে ভুল করে। বিভ্রান্ত হয়ে পথ হারিয়ে আছড়ে পড়ে দ্বীপের একমাত্র গ্রাম ‘ভিলা ডো কোরভো’-এর রাস্তায়। এতে অসংখ্য পাখির মৃত্যু হয়।
পাখির এই পরিণতি দেখে ১৯৯১ সালে দ্বীপের মানুষ সচেতন হন। শুরু হয় এক অনন্য উদ্যোগ। বর্তমানে প্রতিবছর শরতে পাখিদের ওড়ার মৌসুমে দ্বীপের সব সরকারি বাতি নিভিয়ে ফেলা হয়। চারপাশ অন্ধকারে ডুবে গেলে আকাশের তারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাখিরাও নির্বিঘ্নে সমুদ্রের পথ খুঁজে পায়। এরপরও যেসব ছানা পথ ভুল করে মাটিতে পড়ে যায়, তাদের বাঁচাতে রাতের অন্ধকারে পথে পথে ঘোরেন স্থানীয় মানুষেরা। উদ্ধার করা পাখিদের সুস্থ করতে সারা রাত পিচবোর্ডের বাক্সে নিরাপদে রাখা হয়। পরদিন সকালে সমুদ্রের কাছের কোনো উঁচু পাহাড় থেকে তাদের খোলা আকাশে ছেড়ে দেওয়া হয়।