খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী

প্রথম আলো এম এম মাহবুব হাসান প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:১২

একটি দেশের ব্যাংকব্যবস্থা তার অর্থনীতির রক্তসঞ্চালনতন্ত্র। সেই তন্ত্রের এক-তৃতীয়াংশ যদি জমাট বেঁধে যায়, শরীর কত দিন সচল থাকে—বাংলাদেশ আজ ঠিক এই প্রশ্নের মুখোমুখি।


বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জুন শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা, যা বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।


অর্থাৎ ব্যাংকের প্রতি ১০০ টাকার ঋণের প্রায় ৩৩ টাকাই আর নিয়মিত ফেরত আসছে না। মার্চ থেকে জুন—মাত্র তিন মাসে খেলাপি বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, আর ডিসেম্বর থেকে ছয় মাসে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা।


দুই বছরে প্রায় তিন গুণ


দুই বছর আগের ছবির পাশে রাখলে উদ্বেগের মাত্রা বোঝা যায়। ২০২৪ সালের জুনে খেলাপি ঋণ ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা, হার ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ।


দুই বছরে টাকার অঙ্কে তা প্রায় তিন গুণ, হারে আড়াই গুণের বেশি। তবে এর পুরোটা নতুন খেলাপি নয়।


বছরের পর বছর পুনঃ তফসিল আর বিশেষ ছাড়ের মাধ্যমে অনেক ঋণ নিয়মিত দেখানো হতো, ৯০ দিনের আন্তর্জাতিক শ্রেণীকরণ নীতি চালুর ফলে সেগুলো প্রকাশ্যে এসেছে।


প্রকৃত চিত্র প্রকাশ নিঃসন্দেহে সাহসের কাজ। কিন্তু রোগনির্ণয়ের পর সঠিক চিকিৎসা না হলে রোগী কখনো সুস্থ হয় না।


বিশ্বমঞ্চে শীর্ষে বাংলাদেশ, তবে ভুল তালিকায়


বিশ্বব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে ৮৮টি দেশের ২০২৫ সালের গড় খেলাপি ঋণের হার ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ; বাংলাদেশের হার তার প্রায় ৯ গুণ।


এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) হিসাবে এশিয়ার গড় ১ দশমিক ৬ শতাংশ, দক্ষিণ এশিয়ার ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ভারতের হার নেমেছে ২ শতাংশের নিচে; সংকটে থাকা পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাও আমাদের চেয়ে বহুগুণ ভালো অবস্থানে।


ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় ও এশিয়ায় বাংলাদেশ এখন নিঃসঙ্গ শীর্ষে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) আর্থিক স্থিতিশীলতা সূচকের দেশভিত্তিক সর্বশেষ তথ্যের তুলনায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বেও প্রথম—চাদ (৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ), নিরক্ষীয় গিনি (৩০ শতাংশ), আলজেরিয়া ও ঘানার ওপরে।


অথচ ২০২৪ সালের জুনে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ নিয়ে বাংলাদেশ বৈশ্বিক তালিকার শীর্ষে ছিল না; ইউক্রেন, চাদ, নিরক্ষীয় গিনি, ঘানার মতো দেশ তখন এগিয়ে ছিল।


ওই বছরের শেষে এডিবি বাংলাদেশকে এশিয়ার সবচেয়ে ভঙ্গুর ব্যাংকব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত করে।


শিক্ষণীয় হলো, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন পূর্ণ নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) রাখা পুরোনো ঋণ অবলোপন, আদায় ও ভালো মানের নতুন ঋণ বাড়িয়ে হার ১২ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়েছে। আর আমরা যুদ্ধ ছাড়াই উঠে গেছি শীর্ষে।


রাষ্ট্রের দেনা ও ব্যাংকনির্ভরতা


খেলাপির পাহাড়ের পাশে দাঁড়িয়ে আছে আরেকটি পাহাড়-রাষ্ট্রের দেনা। সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সরকারের ঋণ ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ।


বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ হিসাবে ২০২৬ সালের জুনে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে এ দেনা প্রায় ২৪ লাখ কোটি টাকা ছুঁয়েছে।


অর্থ বিভাগের প্রাক্কলন বলছে, চলতি অর্থবছর শেষে তা দাঁড়াতে পারে ২৬ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকায়। গত অর্থবছরে শুধু সুদ বাবদই গুনতে হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার কোটি টাকার বেশি।


সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এই দেনার বড় জোগানদার ভঙ্গুর ব্যাংক খাতই। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকার ব্যাংক থেকে রেকর্ড পরিমাণ ঋণ নিয়েছে, যা সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকাকেও ছাড়িয়ে গেছে।


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন শেষে ব্যাংকব্যবস্থায় সরকারের মোট বকেয়া ঋণ ৬ লাখ ৮১ হাজার ১২৯ কোটি টাকা, যা দেশের মোট খেলাপি ঋণের চেয়ে বেশি।


দুই বছর আগে, ২০২৪ সালের জুনে, এই অঙ্ক ছিল প্রায় ৪ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। চলতি বাজেটে আরও ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।


একদিকে এক-তৃতীয়াংশ ঋণ আটকে, অন্যদিকে তারল্যের বড় অংশ সরকারি বিল-বন্ডে-মাঝখানে চিড়েচ্যাপটা বেসরকারি খাত।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও