খেলাপি ঋণ : প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম
কথায় বলে, ‘কার্যোত্তর ব্যবস্থা গ্রহণের চেয়ে পূর্বসতর্কতা অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে অধিকতর কার্যকর’। ব্যাংক খাতে সৃষ্ট খেলাপি ঋণ কালচার সৃষ্টির পেছনে পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের অভাবই প্রধানত দায়ী। ঋণ প্রস্তাব পাওয়ার পর তা যদি সঠিক ও নির্মোহভাবে মূল্যায়ন করা হতো, তাহলে ভয়াবহ আকারে খেলাপি ঋণ সৃষ্টির প্রবণতা অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হতো।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো অধিকাংশ সময়ই রাজনৈতিক চাপে অথবা নানা অনৈতিক কারণে প্রকল্প প্রস্তাব সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই ও মূল্যায়ন করে না। ফলে ঋণ মঞ্জুরের পর এসব প্রকল্প ব্যাংকের ঋণের কিস্তি সঠিকভাবে নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ করে না। এদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণের কিস্তি নিয়মিত পরিশোধ করছেন না।
বৃহৎ ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যারা ঋণের অর্থ উদ্দিষ্ট খাতে ব্যবহার না করে অসৎ উদ্দেশ্যে অনুৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করেছেন। কেউবা ঋণের অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত প্রভাবশালী। তারা জানেন, ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া অর্থ ফেরত না দিলেও কোনো সমস্যা হবে না।