প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলন কি প্রাণপ্রকৃতির রক্তক্ষত আমলে নেবে

প্রথম আলো পাভেল পার্থ প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২৯

আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে চলছে জাতিসংঘ বিশ্ব প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলনের ১৭তম আসর। ১৯ অক্টোবর শুরু হওয়া এ সম্মেলন শেষ হবে ৩০ অক্টোবর।


কৃষিজ, ভূমিজ, বন, জলাভূমি, দ্বীপ, সমুদ্র ও উপকূল এবং পাহাড়ি প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষাকে প্রধান বিবেচনায় রেখে সম্মেলন ঘিরে একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘লিডার্স ফর নেচার সামিট’, কার্টেজেনা প্রটোকলের ১২তম এবং নায়োগা প্রটোকলের ষষ্ঠতম সভা ও মন্ত্রীদের উচ্চপর্যায়ের সভা। 


১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিও ধরিত্রী সম্মেলনে গৃহীত ‘প্রাণবৈচিত্র্য সনদের (সিবিডি)’ অঙ্গীকার সুরক্ষায় প্রতি দুই বছর পর অনুষ্ঠিত হয় রাষ্ট্রপক্ষের প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলন। ২০২২ সালের কানাডার মন্ট্রিলে কুনমিং-মন্ট্রিল গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি ফ্রেমওয়ার্ক (কেএমজিবিএফ) তৈরি হয়। প্রাণবৈচিত্র্য সুরক্ষার এই বৈশ্বিক কর্মকাঠামো ২০৫০ সালের মধ্যে প্রকৃতিমুখী জীবনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে ৪টি দীর্ঘ ও ২৩টি স্বল্পমেয়াদি কর্মভিত্তিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে। 


স্থল ও জলাভূমি এবং সমুদ্র বাস্তুতন্ত্রের অন্তত ৩০ শতাংশ কার্যকরভাবে সংরক্ষণ, দখল ও ক্ষয় থেকে ৩০ শতাংশ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণে বছরে ২০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহ, লোকায়ত ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানের স্বীকৃতি ও যথাযথ ব্যবহার এবং আদিবাসী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ, অধিকার নিশ্চিতকরণসহ ২৩টি লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সিবিডি সনদ স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্রগুলোর অর্জন করার কথা। 


কিন্তু সেই সব লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বনেতৃত্ব বরাবরই অঙ্গীকার ভঙ্গ করে চলেছেন। প্রতিদিন বিশ্বের কোনো না কোনো বাস্তুতন্ত্র থেকে নিখোঁজ হচ্ছে প্রাণপ্রজাতি, ক্ষয় হচ্ছে বাস্তুতন্ত্র। বিশ্বব্যাপী জারি থাকা প্রবল মানুষকেন্দ্রিক (অ্যানথ্রোপোসেন্ট্রিক) উন্নয়নচিন্তা মৌমাছি থেকে হাতি, অণুজীব থেকে বটগাছ—কারোর জীবনরেখা সুরক্ষিত রাখছে না।


যুদ্ধ, অস্ত্রবাণিজ্য, অন্যায় খাদ্যব্যবস্থা, দখল, ডিজিটাল উপনিবেশ, দূষণ আর নিওলিবারেল বাহাদুরি এই গ্রহকে বৈচিত্র্যহীন করে তুলছে। মানুষসহ প্রতিটি প্রাণপ্রজাতির বেঁচে থাকা ও বিকশিত হওয়ার শর্তগুলো নানাভাবে চুরমার করে দিচ্ছে।


ঢাকা থেকে ২৬ অক্টোবর সকালে ইয়েরেভান বিমানবন্দরে যখন পৌঁছাই, আর্মেনিয়ার ৭টি উভচর ও শতাধিক হ্রদ স্বাগত জানাল। আর্মেনিয়ার এনডেমিক নীল প্রজাপতিকে সম্মেলনের লোগো করা হয়েছে। 


বিমানবন্দর থেকে রিপাবলিক স্কয়ারের দিকে ট্যাক্সিতে যেতে যেতে ককেশাস পবর্তমালার দিকে তাকিয়ে আর্মেনিয়ার নীল প্রজাপতি আমাকে বাংলাদেশের মধুপুর শালবনের এক ফলের মাছির কাছে নিয়ে যায়। এই মাছিও আর্মেনিয়ার নীল প্রজাপতির মতো মধুপুর বনে এনডেমিক। যেসব প্রজাতি কেবল একটি নির্দিষ্ট বাস্তুতন্ত্রে বসবাস করে, দুনিয়ার আর কোথাও প্রাকৃতিক পরিবেশে দেখা যায় না, তারাই এনডেমিক।


মধুপুর শালবনে হলুদ গোত্রের দুটি গাছও এনডেমিক। বনের মান্দি আদিবাসীরা গাছগুলোকে বলে দিগ্গি সামজক। এসব গাছ মধুপুর শালবনের আদিবাসীদের লোকায়ত চিকিৎসা ও বহু আধ্যাত্মিক কৃত্যের সঙ্গে সম্পর্কিত। 


ইয়েরেভানের মেরিডিয়ান এক্সিবিশন সেন্টারে নিবন্ধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সম্মেলনে প্রবেশ করেই চারপাশ বিষণ্ন হয়ে যায়। একটা ব্যানারে লেখা আছে, ২০২৫ সালে আমরা ৫৮টি তাপানুলি ওরাংওটাং হারিয়েছি। প্রবল বৃষ্টি, ভূমিধস ও ঘূর্ণিঝড় সেনিয়ারের কারণে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রায় এরা নিহত হয়েছিল।


বাংলাদেশের পাহাড়ি ঢল, বন্যা, পাহাড়ধস, উত্তরাঞ্চলের খরা কিংবা প্রাকৃতিক বনে অগ্নিকাণ্ডের কারণে আমরা কত প্রাণপ্রজাতি হারিয়েছি, কে জানে? 


প্রকৃতির জন্য তৎপরতা: ইয়েরেভান ঘোষণা


ইয়েরেভানে প্রাণবৈচিত্র্য সম্মেলন শুরু হয়েছে বিশ্বনেতৃত্বের অঙ্গীকার ভঙ্গ ও হতাশার খতিয়ান সামনে রেখে। সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক পর্ব শুরুর আগে ১৬ অক্টোবর ‘লিডার্স ফর নেচার সামিটে’ বিশ্বনেতৃত্ব ‘ইয়েরেভান ঘোষণায়’ স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন, বিশ্বজুড়ে প্রাণপ্রকৃতি সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়। আবার ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে ২০৫০ সালের মধ্যে মানুষ ও প্রকৃতির সহাবস্থান নিশ্চিতকরণের অঙ্গীকার করা হয়েছে। 


জাতীয় অর্থনীতিতে প্রাণবৈচিত্র্যের অন্তর্ভুক্তি, বাস্তুতন্ত্রের পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, অর্থায়নের বৈশ্বিক আহ্বান ও সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবমুখী ও দৃশ্যমান তৎপরতা বাস্তবায়নে বিশ্বনেতৃত্ব ইয়েরেভান ঘোষণার মাধ্যমে আবার রাজনৈতিক অঙ্গীকার করলেন। 


একটি পাখি বা মাছ, সরীসৃপ বা উভচর, নদী বা বন, গাছ বা পতঙ্গের জীবন কি জীবন–মরণের যন্ত্রণা নিয়ে পরের সম্মেলনের জন্য অপেক্ষা করবে? নাকি আমরা বিশ্বব্যাপী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দায়িত্বশীল তৎপরতা দেখতে পাব? ইয়েরেভান সম্মেলন এখনো এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেনি।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও