তেহরান থেকে ফিরে: ‘যুদ্ধরত’ ইরানকে যেমন দেখলাম

প্রথম আলো এম সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:২১

২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তিন দিনের জন্য ইরানের রাজধানী তেহরানে গিয়েছিলাম। ইরান পাবলিক প্রাইভেট হসপিটালের (আইপিএইচ) সঙ্গে যুক্ত মেডিক্যাল ট্যুরিজম প্রতিষ্ঠান টেব মেডিক্যাল ট্যুরিজমের আমন্ত্রণে এই সফর। আমাদের দলটি ছোট ছিল—মাত্র তিনজনের। এর আগে ২০১৯ সালে আমরা কয়েকজন প্রায় ১৭ দিনের জন্য ইরান সফর করেছিলাম। সে সময় ইরানের বহু দর্শনীয় জায়গায় যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল।


বাংলাদেশিদের জন্য ইরানে চিকিৎসার সুযোগ ও আর্থিক সুবিধা নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে একজন ইরানি চিকিৎসক ও তাঁর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। আলোচনায় তাঁরা বাংলাদেশে ক্যানসার ও ফার্টিলিটি সেন্টার স্থাপনের কথা বলেন। এবারের তেহরান সফরেও ইরানের মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট একই প্রস্তাব রেখেছিলেন।


পরে তেহরানে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা হয়। তাঁরা বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনে তাঁদের আগ্রহের কথা জানান। বাংলাদেশের অনুমোদন পাওয়া গেলে ঢাকা–তেহরান সরাসরি যোগাযোগ শুরু করতে ইরানের আগ্রহের কথাও আলোচনায় উঠে আসে।


ইরান বা এককালের পারস্য সম্পর্কে যাঁরা অল্পবিস্তর জানেন, তাঁরা মানবসভ্যতার বিকাশে এই অঞ্চলের অবদান সম্পর্কেও অবগত। সাহিত্য, স্থাপত্যসহ সভ্যতার নানা ক্ষেত্রে তৎকালীন পারস্য তথা আজকের ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কয়েক শতাব্দী ধরে ফারসি এই উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদালত ও প্রশাসনের ভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।


খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে পারস্যের সম্রাট সাইরাস দ্য গ্রেট ব্যাবিলন জয় করেন। সেই বিজয়ের পর তাঁর নামে একটি ঘোষণা পোড়ামাটির সিলিন্ডারে খোদাই করা হয়, যা আজ ‘সাইরাস সিলিন্ডার’ নামে পরিচিত। মূল সিলিন্ডারটি এখন লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রাখা আছে। ২০১৯ সালের সফরে পারসেপোলিস ও সাইরাস সিলিন্ডারের একটি প্রতিলিপি দেখার সুযোগ হয়েছিল। 


প্রায় সাত বছর পর ইরানের রাজধানীতে দ্বিতীয়বার গেলাম। এবার এলাম এক ভয়াবহ যুদ্ধের মধ্যে। ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিরা নিহত হন। এরপর ইরানের পাল্টাহামলা ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। 
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি ইরান তার প্রতিবেশীদের ওপর যেন হামলা চালাতে না পারে এবং ইরানিরা নিজেদের নেতৃত্বের পরিবর্তন ঘটাতে পারেন—এমন পরিস্থিতি তৈরি করার কথাও বলেছেন তিনি।


আমার মনে হয়েছে, যুদ্ধের ফলে ইরানের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা বাস্তবে ফল দেয়নি; বরং আমার সফরকালে যাঁদের দেখেছি, তাঁদের অনেকের মধ্যেই বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষে সমর্থনের মনোভাব লক্ষ করেছি। তবে তিন দিনের সফরে একটি দেশের সব মানুষের মনোভাব বোঝা সম্ভব নয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও