ডেঙ্গু আক্রান্ত তিন বোনই হাসপাতালে ছিল, একজনের ফেরা হলো না

প্রথম আলো প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৬:০৮

সাফিয়া হাসিন আরোশী আইসিইউতে তার বাবাকে বলেছিল, সে শেষ পর্যন্ত ফাইট করবে। চেষ্টাও করেছিল। দন্ত চিকিৎসক বাবা হাসানুজ্জামান বললেন, ‘আমার ফাইটার, চ্যাম্পিয়ন মেয়েটা কথা রাখেনি। হাসপাতালে যাওয়ার দিনও বলেছিলাম, আমরা পাঁচজনই বাসায় ফিরব। কিন্তু একজনকে ছাড়াই বাসায় ফিরতে হলো।’


হাসানুজ্জামান-শারমীন আক্তার দম্পতির তিন মেয়ের মধ্যে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরোশী ছিল বড়। সায়রা হাসিন সরোশী ষষ্ঠ ও সাকেরা হাসিন রোদশী প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। তারা তিন বোন একাডেমিয়ার মিরপুর ক্যাম্পাসে পড়ত। ১৯ অক্টোবর প্রথমে আরোশীর জ্বর আসে। সেদিনই পরীক্ষায় জানা যায়, তার ডেঙ্গু পজিটিভ। এরপর ছোট দুই বোনেরও জ্বর ও ডেঙ্গু পজিটিভ হয়।


হাসানুজ্জামান জানালেন, প্রথমে বাসাতেই মেয়েদের তরল খাবার খাওয়ানো, প্রতিদিন প্লাটিলেটসহ অন্যান্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল। আরোশী খেতে পারলেও বমি হচ্ছিল। পরে তার অবস্থা খারাপ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ২২ অক্টোবর তিন মেয়েকেই ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন মেয়ের শারীরিক জটিলতা বাড়তে থাকে। সেন্ট্রাল হাসপাতাল থেকে বিআরবি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার পর ২৫ অক্টোবর বেলা ১টা ২৬ মিনিটে আরোশী মারা যায়।


গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাটিকাটা, বাগানবাড়ি এলাকায় এসিওরেন্স সিটিতে চিকিৎসক হাসানুজ্জামানের নিজস্ব ফ্ল্যাটে বসে কথা হয়। ২০১৪ সালে সাফিয়া হাসিন আরোশী তিন বছর বয়স থেকে এখানেই বড় হয়েছে। মারা যাওয়ার পর প্রথম জানাজা এখানেই হয়েছে। পরে নোয়াখালীর মাইজদীতে দাদা চিকিৎসক নুরুজ্জামান চৌধুরী ও দাদি আনোয়ারা বেগমের কবরের পাশে আরোশীকে দাফন করা হয়েছে।


বাবা বললেন, ‘মেয়ের প্লাজমা লিকেজ হচ্ছে। কিডনি কাজ করছে না। তখনো মেয়েকে যখন বলেছি, তুমি আমার ফাইটার গার্ল, ফাইট করো। মেয়ে বলেছে, বাবা, আমি হাল ছেড়ে দেব না। আমি ফাইট করব।’


মেয়ের অবস্থা দেখে বাবা বুঝতে পারছিলেন, হাতে আর বেশি সময় নেই। তখন মেয়ের কাছে মাফ চান, মেয়েকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলেন না বলে। মেয়ের অনেক শখ পূরণ করতে পারেননি। অনেক সময় বকা দিয়েছেন। মেয়ে তখনো মুখে হাসি এনে উল্টো সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেছে বাবাকে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও