জাপানের বিগ–বি পরিকল্পনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সুযোগ

প্রথম আলো প্রতীক বর্ধন প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:০৭

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা নিতে পারে, এমন কথাও বিশ্লেষকেরা বলে আসছেন।


দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশ কার্যতই আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান আর অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়া এক বিষয় নয়। সেই অবস্থান কাজে লাগাতে প্রয়োজন অবকাঠামো, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর অর্থনৈতিক সম্পর্ক।


সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কার্যকর কূটনীতি। ছোট দেশ হিসেবে বৃহৎ দুই প্রতিবেশী দেশের বাজারের সুবিধা নিতে নিজেদের দর-কষাকষির সক্ষমতা বৃদ্ধি করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত উপায়। জাপানের বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক শিল্পোন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে সেই পুরোনো প্রসঙ্গটি নতুন করে সামনে এসেছে।


বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে জাপান সরকারের প্রস্তাবিত বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ (বিগ-বি) ‘ইনিশিয়েটিভ বিগ-বি’ নামে পরিচিত। এই প্রস্তাবের আওতা বাড়ানো হয়েছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফরে আছেন। নতুন এই রূপরেখা দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে প্রতিফলিত হতে পারে।


২০১৪ সালে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে শিল্প ও যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে পরিকল্পনাটির সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্ত করে বৃহত্তর অর্থনৈতিক বলয় তৈরির ধারণাও সামনে এসেছে।


এখানেই পরিকল্পনাটির অর্থনৈতিক তাৎপর্যের পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব তৈরি হয়েছে। জাপান এমনি এমনি বা ভালোবেসে বাংলাদেশ নিয়ে এ পরিকল্পনা করেনি। তারা মূলত চীন থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে আনার যে কৌশল হাতে নিয়েছে, অর্থাৎ তাদের যে চায়না প্লাস নীতি, তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে তাদের এ প্রস্তাব।


ফলে এ প্রকল্পের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। ভারতের কাছে বাংলাদেশ হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সমুদ্রবন্দরের যোগাযোগের কার্যকর পথ। বাংলাদেশের জন্য প্রশ্ন হলো, এই দুই দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থের সমন্বয় থেকে কতটা সুবিধা আদায় করা সম্ভব?


সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বে অব বেঙ্গল কনভারসনে অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান ঠিক এ কথাই বলেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্র এশিয়ার দিকে সরে আসছে। চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনৈতিক শক্তির উত্থানের সঙ্গে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি বিনিময় বাড়ছে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশের জন্যও বড় সুযোগ তৈরি করেছে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে বাংলাদেশকে এশিয়ার আঞ্চলিক সরবরাহ–শৃঙ্খল ও বাজারের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হতে হবে।


এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, জাপানের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতেই পারে।


ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বঙ্গোপসাগরের গুরুত্ব


ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশটির মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ মূলত ‘চিকেন নেক’ নামের সংকীর্ণ স্থলপথের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে যোগাযোগ বাড়ানো গেলে এ অঞ্চলের পণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় কমানোর সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে সেই সুবিধা দিয়েছে, যদিও ভারত সেটা তেমন একটা ব্যবহার করেনি। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের বন্দর ব্যবহার করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা সম্ভব হতে পারে।


জাপানের পরিকল্পনায় এই যোগাযোগব্যবস্থার গুরুত্ব আছে। কারণ, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কার্যকর সংযোগ গড়ে উঠলে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য বড় বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য ভারতের বাজারে যেতে পারে। আবার ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পণ্যও বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।


তবে এখানে বাংলাদেশের স্বার্থের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেশী দেশের পণ্য পরিবহনের সুবিধা তৈরি হলেই বাংলাদেশ অনেক লাভবান হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ যদি শুধু পণ্য পরিবহনের পথ ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তাহলে তেমন একটা লাভ হবে না; বরং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্পাঞ্চল, গুদাম, পণ্য প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহনসেবা ও রপ্তানিমুখী উৎপাদনশিল্প গড়ে তোলা গেলে অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন বাড়বে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও