সিমরান কাব জিয়েগি আপনি জিন্দেগি?

বিডি নিউজ ২৪ ঢাকা মেট্রোপলিটন আফরোজা সোমা প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫৮

ঢাকায় নাকি দিনে গড়ে ৪৪ টি তালাকের ঘটনা ঘটছে। এই তথ্য এই অক্টোবরে প্রকাশিত একটি পত্রিকা থেকে পাওয়া। সংবাদটি পরিবেশন করতে গিয়ে ওই পত্রিকার শিরোনামে লেখা হয়েছে, ‘ঢাকায় দিনে ভাঙছে ৪৪ সংসার’।


ভাষা নিরীহ ও নির্বিষ হতে পারে; হতে পারে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, বিচারপ্রবণ এবং সালিসি মনোভঙ্গিরও। ভাষা হয় সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক মতাদর্শের ধারক-বাহকও। এবং এটি কেবল একটি সংবাদপত্রের ভাষা নয়, খুঁজলে এমন আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া সম্ভব।


সংবাদমাধ্যমে ব্যবহৃত খবরের ভাষাও সবসময় নিরপেক্ষ ও নির্বিষ নয়। বরং আজকের দুনিয়ায় সংবাদমাধ্যমই হলো সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় দেখানো সেই ‘মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্র’ বা মগজ ধোলাইয়ের মেশিন।


মগজ ধোলাইয়ের এই আধুনিক মেশিন সত্যজিতের হীরক রাজার মস্তিষ্ক প্রক্ষালন যন্ত্রের চেয়ে হাজার গুণ বেশি ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক। কারণ এই যন্ত্রের কারসাজি বোঝা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, বিশাল ডিগ্রিধারী বহু পণ্ডিতের পক্ষেও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।


বাতাসে মিশে থাকা গন্ধরাজ ফুলের অদৃশ্য সুবাস বা ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধ মগজের ভেতরে ঢুকে মনের মধ্যে ভালোলাগার মিষ্টি অনুরণন কিংবা বিবমিষা জাগিয়ে তুলতে পারে। ঠিক এমনই অদৃশ্যভাবে বিশ্বব্যাপী কাজ করে গণমাধ্যমের সম্মতি উৎপাদনের কারসাজি।


কোনো একটি সংবাদ বা কনটেন্ট বা আধেয়কে কীভাবে, কোন কায়দায়, কত রকম ছাঁকন পদ্ধতির ভেতর দিয়ে নিয়ে গিয়ে প্রয়োজনে বরফের ধারালো ছুরি বা বিকল বন্দুক হিসেবে উপস্থাপন করা যায়—তা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন চিন্তাবিদ চমস্কি ও হারমান।


এক্ষেত্রে গণমাধ্যম প্রেমিকের মতো আচরণ করে। মানে যেটিকে রবীন্দ্রনাথের ভাষায় বলা যায়, ‘তুমি অনেক কথা যাও যে বলে কোনো কথা না বলে’।


কেতাবি ভাষায় গণমাধ্যমের এহেন আচরণকে তাত্ত্বিকেরা নাম দিয়েছেন ‘এজেন্ডা সেটিং থিওরি’।


‘ফ্রেমিং’ এবং ‘প্রাইমিং’-এর ভেতর দিয়ে গণমাধ্যম মানুষের মন ও মগজকে এমন এক জায়গায় নিয়ে উপনীত করে, যেখানে ‘ঠাকুর ঘরে কে রে’—শুনলেই দর্শক-পাঠকের মন কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে কেবল ‘আমি কলা খাই না’ কথাটিই সবার আগে ভাবতে শুরু করে।


অর্থাৎ মিডিয়া প্রকাশ্যে কোনো ব্যক্তি বা মতাদর্শের পক্ষ বা বিপক্ষ না নিয়েও কারো পক্ষে বা বিপক্ষে দর্শক-পাঠকের মগজকে ক্রমাগত ধোলাই করতে থাকে এবং বিষয়টির পক্ষে বা বিপক্ষে জনমত তৈরি করতে থাকে। সারা দুনিয়ায় এই নিয়ে ভুরি ভুরি গবেষণা রয়েছে।


যেমন ‘টেরোরিস্ট’ কথাটা শুনলেই শব্দটির আগে অবচেতনভাবে পশ্চিমা শিক্ষিত শহুরে সমাজের মাথায় আসে ‘মুসলিম টেরোরিস্ট’ বা ‘কমিউনিস্ট টেরোরিস্ট’।


কিন্তু কখনো ভেবেছেন, ‘ক্যাপিটালিস্ট টেরোরিস্ট’ বা ‘ইহুদি টেরোরিস্ট’ বা ‘বৌদ্ধ টেরোরিস্ট’ কিংবা ‘হিন্দু টেরোরিস্ট’ শব্দগুলো ভাবনার চৌহদ্দির মধ্যেও আসে না কেন?


গণমাধ্যম খুব সূক্ষ্মভাবে সংবাদ, কার্টুন, কৌতুক, হাস্যরস, সিনেমা ও নাটকের ভেতর দিয়ে ফ্রেমিং ও প্রাইমিং-এর কারসাজিটা করে থাকে।


তাই, ‘কমিউনিস্ট সন্ত্রাসী’ শব্দ দুটিকে আমাদের মগজ পাশাপাশি বসিয়ে দিতে দ্বিধা করে না। অথচ ‘ক্যাপিটালিস্ট সন্ত্রাসী’ শব্দটা চিন্তার মানচিত্রেই আসে না; যার ফলে তা আমাদের মুখেও আসে না।


এই যে খুব সহজাতভাবেই একটা ধারণাকে আরেকটার পাশে টেনে নিয়ে আসা বা বসিয়ে দেওয়া, কিংবা একটা দেখলেই আরেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মনে চলে আসা—বিষয়টা মোটেও অত সহজ নয়।


এটা ঘটায় আমাদের অবচেতন মন। কারণ আমাদের সমাজ তথা সমাজের মিডিয়া মনোজগতে তথ্য বা বয়ানগুলোকে ক্রমাগত ভাঙা টেপ রেকর্ডারের মতো বাজিয়ে এই ছাঁচ তৈরি করে। অর্থাৎ সচেতনভাবে নির্দিষ্ট দৃষ্টিভঙ্গির বয়ান গণমাধ্যম সমাজের শিরায় শিরায় ইনজেকশনের মতো প্রবেশ করাতে থাকে। এই প্রক্রিয়া স্বল্প বা দীর্ঘ সময় ধরে জারি রেখে দর্শক-পাঠক তথা জনতার চিন্তাকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে নিয়ে আসা হয়।


গোয়েবলসীয় তত্ত্বটা মনে আছে তো? এমনকি কোনো ডাহা মিথ্যাও (বিগ লাই) যদি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিনিয়ত ভাঙা টেপ রেকর্ডারের মতো পাবলিকের কানের কাছে বাজানো হতে থাকে, তবে একপর্যায়ে মানুষ সেটিকেই সত্য বলে বিশ্বাস করতে শুরু করবে।


ভাঙা টেপ রেকর্ডার বাজানোর পাশাপাশি পাবলিককে যদি প্রকৃত সত্যটা কোনোভাবেই আর জানতে দেওয়া না যায়, ব্যাস, তাহলেই কেল্লা ফতে! ‘আসল সত্য’ দাবি করে আর কোনো সত্যই মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এই হলো গোয়েবলসীয় কায়দায় অভীষ্ট সত্য নির্মাণের নীলনকশা।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও