স্বাস্থ্য খাতে কী ঝুঁকি তৈরি করছে এআই
আমি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পর্কিত বিষয় পড়াই। এ বিষয়েই চিন্তা ও গবেষণা করি কয়েক বছর ধরে। আর এ গবেষণা যদি কোনোভাবে দেশের মানুষের কল্যাণে লাগে, তাহলেই সেটাই হবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা। সম্প্রতি আমি একটি প্রশ্ন নিয়ে কাজ শুরু করেছি। প্রশ্নটি হলো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ঠিক কতটা সংবেদনশীল ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা নিরাপদ? আমার চিন্তা শুরু হয়েছে বিশেষ করে সেসব সেবা খাতে বা ক্ষেত্রে, যেগুলো সরাসরি মানুষের সঙ্গে, মানুষের জন্য এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করে। এ তালিকার সেবা খাতে একেবারে শীর্ষে আছে স্বাস্থ্যসেবা। শুরুতেই আমার সিদ্ধান্তটি বলে রাখি : স্বাস্থ্য খাতে এআই নিয়ে যে গতিতে কথা হচ্ছে, সেই গতিতে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়, এবং সব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পর্কিত উদ্ভাবন এখানে গ্রহণ করাও উচিত নয়।
প্রথমেই মূল কারিগরি প্রশ্নটি স্পষ্ট করে নিই। কারণ, এটি না বুঝলে বাকি আলোচনা অর্থহীন। স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে একজন অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীর দিকে তাকিয়ে যা বোঝেন, সেই জ্ঞান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে শিখিয়ে দেওয়া যায় না। সেই জ্ঞান বইয়ে লেখা থাকে না, কম্পিউটারের ফাইলেও থাকে না। সেটি বছরের পর বছর হাজার হাজার রোগী দেখে তৈরি হওয়া এক ধরনের বোধ, যেখানে রোগীর মুখের ভাব, কণ্ঠের দুর্বলতা, পরিবারের ইতিহাস এবং এলাকার পরিচিত রোগবালাইসম্পর্কিত অভিজ্ঞতা আর জ্ঞান কাজ করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা পারে তা হলো, এসব বিষয়ে কিছু সহায়তা এবং সেটিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়।
- ট্যাগ:
- মতামত
- স্বাস্থ্য খাত