পর্যটনে থাইল্যান্ডের আকাশচুম্বী সাফল্য, বাংলাদেশ পিছিয়ে কেন?
রাজধানী ঢাকাকে ঘিরে বুড়িগঙ্গার ঐতিহাসিক স্রোতধারা, পুরান ঢাকার শতবর্ষী স্থাপত্য, পৃথিবীর দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সাগরকন্যা কুয়াকাটা কিংবা জীববৈচিত্র্যে অনন্য সুন্দরবনের রহস্যঘেরা ম্যানগ্রোভ বন– প্রকৃতি ও ঐতিহ্যের এমন বর্ণাঢ্য সমাহার দক্ষিণ এশিয়ায় সত্যিই বিরল। অথচ চোখজুড়ানো প্রাকৃতিক প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে বাংলাদেশ আজ এক উপেক্ষিত নাম।
ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক দূরত্ব খুব বেশি না হওয়া সত্ত্বেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ড যেখানে বছরে তিন কোটির বেশি বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করে হাজার কোটি ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলেছে, সেখানে বাংলাদেশ কেবল ফাইলবন্দি নীতি আর কাঠামোগত অব্যবস্থাপনার চক্রে স্থবির হয়ে আছে। প্রকৃতি দুহাত ভরে দিলেও পর্যটন খাতকে বিশ্বমানের করে তোলার ক্ষেত্রে পদে পদে হোঁচট খাচ্ছে দেশ।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশে বিদেশি দর্শনার্থী এসেছিলেন মাত্র ৫ লাখ ৮৫ হাজারের মতো, যার অতিক্ষুদ্র অংশই প্রকৃত অবকাশযাপনকারী পর্যটক। পর্যটক আগমন ও আয়ের এই আকাশ-পাতাল ব্যবধান কেবল সাধারণ সংখ্যার ফারাক নয়; পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় নীতি, কাঠামোগত দুর্বলতা, অবকাঠামোর ঘাটতি, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংয়ের অভাব এবং সুদূরপ্রসারী অর্থনৈতিক পরিকল্পনাহীনতারই এক নির্মম দর্পণ।