কলেজ সরকারীকরণের দুঃসহ পরিণাম
কলেজ কিংবা মাধ্যমিক স্কুল সরকারীকরণের খবরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কেবল শিক্ষক-কর্মচারী নন; তাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থী, অভিভাবক তথা এলাকাবাসীরও মনে খুব আনন্দ। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীর পরিবারের অন্য সদস্যদের মনেও বড় স্বস্তি ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কিন্তু বাস্তবে? ঘোষণার ১০ বছর পরও গ্যাঁড়াকলে পড়ে সরকারীকরণের ‘মহৎ’ উদ্দেশ্যটিই বিফল হতে চলেছে। না শিক্ষার অগ্রগতি কিংবা সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ, এমনকি মহান পেশার মর্যাদাটি ধরে রাখা—সবকিছুই যেন এলোমেলো; কোনোক্রমেই হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও হতাশা এসে ভর করেছে সবার মাঝে। সবার মনে একই প্রশ্ন, তাহলে এ কী ধরনের সরকারীকরণ?
শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বিভিন্ন স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাব্যবস্থা—এবংবিধ কোনো খবর, তা গৌরব-গরিমা আর সমস্যা-সম্ভাবনা কিংবা ইতিহাস-ঐতিহ্য যা-ই হোক, বরাবরই আমার খুব আগ্রহ ও কৌতূহলের বিষয় এবং তা সেই কৈশোরবেলা থেকেই। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে (২০১৪-২০১৮) উপজেলা স্তরে ধাপে ধাপে অন্তত সাড়ে ৩০০ কলেজ (সঙ্গে আরও অন্তত ৩০০ মাধ্যমিক স্কুল) সরকারীকরণ হয়। বর্তমানে দেশে সরকারি কলেজবিহীন কোনো উপজেলা নেই। সরকারীকরণের প্রক্রিয়া শুরুর আগে থেকেই কলেজগুলোর নানা দৈন্যদশা ও অনিয়ম-বিশৃঙ্খলা মারাত্মক আকার ধারণ করে। সরকারীকরণের আগে ও পরে অন্তত ২০০ কলেজে (৩০০ কলেজের মধ্যে) বছরের পর বছর নিয়মিত অধ্যক্ষ না থাকায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হয়। এতে অনিয়ম-বিশৃঙ্খলার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ দুটি পদই শূন্য, তাও আবার বছরের পর বছর ধরে; কী এক দুঃসহ বিড়ম্বনাময় পরিস্থিতি!
- ট্যাগ:
- মতামত
- কলেজ শিক্ষা