মর্গে নারীদেহের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা
১৮ অক্টোবর ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি দৈনিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে একাধিক নারী মরদেহের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের নভেম্বর ও ২০২৬ সালের জানুয়ারিতেও মর্গে রাখা দুই নারী মরদেহের নমুনায় শুক্রাণুর উপস্থিতি পাওয়া যায়। আরও তিনটি ঘটনার নথি বিশ্লেষণ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে একই মর্গে এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটার অভিযোগও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের পূর্ণ সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার করা এক নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের সময় সন্দেহ দেখা দেওয়ায় প্রয়োজনীয় নমুনা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় শুক্রাণুর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই মর্গে রাখা আরেক নারীর মরদেহের নমুনায় একাধিক পুরুষের শুক্রাণু পাওয়ার কথাও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
একজন মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর দেহের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করা পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব। হাসপাতালের মর্গে নারী মরদেহের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগ তাই শুধু গুরুতর অপরাধের প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রশাসনিক তদারকি ও জবাবদিহিরও পরীক্ষা।
- ট্যাগ:
- মতামত
- হাসপাতাল মর্গ
- নারীদেহ
- মর্গ