হারিয়ে যাচ্ছে অপেক্ষা—অপেক্ষাহীন পৃথিবী কি সুখী পৃথিবী
একসময় চিঠির জন্য অপেক্ষা করতে হতো। ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টি শোনা গেলে বুকের ভেতর কেমন একটা আলো জ্বলে উঠত। চিঠি আসবে কি না, কখন আসবে, কে লিখেছে—কিছুই নিশ্চিত ছিল না। তবু অপেক্ষার মধ্যে ছিল এক ধরনের আনন্দ। একটি চিঠি হাতে পাওয়ার আগের কয়েকটি দিন, কয়েকটি ঘণ্টা, এমনকি কয়েকটি মিনিটও যেন আলাদা অর্থ বহন করত।
তারপর এলো টেলিফোন। চিঠির অপেক্ষা কমল। মোবাইল ফোন এসে দূরত্ব আরও ছোট করল। তারপর স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, তাৎক্ষণিক বার্তা, ভিডিও কল। এখন পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কয়েক সেকেন্ডে খবর পৌঁছে যায়। খাবার চাইলে দরজায় আসে, গাড়ি চাইলে রাস্তায় আসে, টাকা পাঠালে মুহূর্তে পৌঁছে যায়, কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সামনে হাজির।
আমরা যেন এমন এক পৃথিবীতে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে অপেক্ষা করাটা প্রায় অপ্রয়োজনীয়।