মধ্যপ্রাচ্যে উদারনীতি বা লিবারেল চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটছে—কথাটি শুনলে কারও কারও কাছে বাস্তবতাবিরোধী মনে হতে পারে। ধরেই নেওয়া হতো, মধ্যপ্রাচ্যের মানুষ বোধ হয় উদারনীতিতে আর আগ্রহী নয়—তারা যেন এক সম্পূর্ণ ভিন্ন, ধর্মকেন্দ্রিক ‘সত্যের শাসনব্যবস্থায়’ অভ্যস্ত।
এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, এমন একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা যেখানে ধর্মীয় মৌলবাদীরা নিজেদের ইচ্ছেমতো ধর্ম ব্যাখ্যা করার অধিকার দাবি করে, ব্যক্তিস্বাধীনতাকে ধর্মীয় নির্দেশের নিচে স্থান দেয়, পুরুষতান্ত্রিকতাকে উসকে দেয় এবং নারীদের পোশাকের ওপর নানা কড়াকড়ি আরোপ করে।
কিন্তু চরম স্বৈরাচারী শাসনের আড়ালেও রচিত হচ্ছিল অন্য এক ইতিহাস। ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচটি প্রধান দেশে আমি ধারাবাহিক কিছু জরিপ পরিচালনা করি। মানুষ কেন নির্দিষ্ট কিছু মূল্যবোধ লালন করে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কীভাবে বদলাচ্ছে, তা বোঝার জন্য মিসর, ইরান, ইরাক, সৌদি আরব ও তুরস্কের জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল নমুনার ওপর মুখোমুখি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়।