বাংলাদেশের অর্থনীতির পরবর্তী বড় শক্তি খুঁজতে গেলে আমাদের খুব দূরে তাকাতে হবে না। প্রবাসী আয়, তরুণ জনগোষ্ঠী ও বঙ্গোপসাগর, এই তিন সম্পদই হতে পারে দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি। তৈরি পোশাক, কৃষি, অভ্যন্তরীণ বাজার ও প্রবাসী আয়ের ওপর ভর করে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু পরিবর্তনশীল বিশ্ব অর্থনীতিতে এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে উৎপাদন, প্রযুক্তি, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জাপানের সহযোগিতায় প্রস্তাবিত বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা বিগ-বি (BIG-B) বাংলাদেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ২০২৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর নির্ধারিত জাপান সফরকে ঘিরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সফরকে সামনে রেখে আলোচিত প্রায় ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহযোগিতা প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন ও যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তবে প্রতিশ্রুতি আর বাস্তব বিনিয়োগ এক বিষয় নয়। এই সফরের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে আলোচনাকে কতটা বাস্তব প্রকল্প, কর্মসংস্থান ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে রূপ দেওয়া যায় তার ওপর।
বিগ-বির মূল ধারণা হলো ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করা এবং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মধ্যে বাণিজ্যিক সংযোগস্থলে পরিণত করা। জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকার উদ্যোগে আলোচিত এই পরিকল্পনা কেবল সড়ক, বন্দর ও শিল্পাঞ্চল নির্মাণের বিষয় নয়। এর সার্থকতা নির্ভর করবে অবকাঠামোর সঙ্গে উৎপাদন, দক্ষ মানবসম্পদ, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাজারের কার্যকর সংযোগ তৈরির ওপর।