ইউরোপের রাজপথে আজ বিক্ষোভের আগুন, মানুষের কণ্ঠে ক্ষোভ আর রাজনীতির মঞ্চে অভিবাসন ও ইসলাম নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক চলছে। জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনসংকট, বেকারত্ব ও সরকারের ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ মানুষ যখন রাস্তায় নামছে, তখন সেই ক্ষোভকে মুসলমান ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত করার বিপজ্জনক প্রবণতাও সামনে আসছে। কিন্তু, ইউরোপের সংকটের দায় কি সত্যিই মুসলমানদের, নাকি ব্যর্থ অর্থনীতি, বৈষম্যমূলক নীতি ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির দায় আড়াল করতেই ইসলামফোবিয়াকে হাতিয়ার করা হচ্ছে?‘বিসমিল্লাহ্’ যদি বিশ্বাসের ঘোষণা হয়, আর ফরাসি অভিব্যক্তি ‘সে লে তেনেব্রঁ’ যদি অন্ধকারের রূপক হয়, তবে এই অন্ধকারের উৎস খুঁজতে হবে রাষ্ট্রের নীতিতে, সমাজের বিভাজনে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের দ্বিচারিতায়। মানবাধিকারের প্রবক্তা ইউরোপের কোনো সরকার যখন ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের সন্দেহের চোখে দেখে, তখন তার গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারই প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এই বিক্ষোভ তাই শুধু রাজপথের অস্থিরতা না হয়ে আজ সমগ্র ইউরোপের বিবেক, সহনশীলতা ও গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষায় রূপ নিয়েছে।
তবে এখানে মূল বিষয়টি আরও গভীর। যে ইউরোপ গণতন্ত্র, মানবাধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বহুত্ববাদের আদর্শকে বিশ্বজুড়ে তুলে ধরে, সেই ইউরোপেরই কিছু দেশে মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচয় কেন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসছে? কেন অভিবাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার সংকট কখনো কখনো ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে জনমত সংগঠনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে? আর কেন সাধারণ মানুষের বাস্তব ক্ষোভের সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষের রাজনীতি মিশে গিয়ে গণতান্ত্রিক সহাবস্থানকে দুর্বল করে?