সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী প্রেমের সম্পর্কের মূল ভিত্তি হল পারস্পরিক ভালোবাসা। সামাজিক মূল্যবোধ, রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা, শিক্ষা, শখ বা বুদ্ধিমত্তার দিক থেকে যুগলদের মধ্যে মিল থাকা পারস্পরিক বোঝাপড়াকে অনেক সহজ করে তোলে।
তবে একটি চিরায়ত প্রশ্ন প্রেম জাগানিয়া মনে প্রায়ই উঁকি দেয়, ‘সম্পর্কে দুজন মানুষকে কি একে অপরকে ঠিক সমান মাপে ভালোবাসতে হবে?’
মনস্তত্ত্ব ও সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্কে গভীর টান থাকাটা জরুরি হলেও ভালোবাসার পরিমাণ ঠিক দাঁড়িপাল্লার মাপে সমান হওয়া অবাস্তব এবং অসম্ভব।
মনস্তত্ত্ব-বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘সাইকোলজি টুডে’-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ইজরায়েলের ‘ইউনিভার্সিটি অব হাইফা’-এর দর্শন ও মনস্তত্ত্বের অধ্যাপক ড. অ্যারন বেন-জেভ এই বিষয়ে এক নতুন ধারণার অবতারণা করেছেন।
তার মতে, “ভালোবাসার পরিমাপে সামান্য কম-বেশি থাকা মানেই সম্পর্কটি অস্বাস্থ্যকর বা বিষাক্ত নয়।”
ভালোবাসা কি মাপা সম্ভব?
কোনও গবেষণাগারে সঙ্গীর হৃদস্পন্দন বা শারীরিক হরমোন মেপে ভালোবাসার গভীরতা নির্ণয় করা সম্ভব নয়। মানুষ মূলত সঙ্গীর আচরণ এবং নিজের অনুভূতি দিয়ে সেটা বোঝার চেষ্টা করে।
ড. অ্যারন বেন-জেভ তার ‘দ্য আর্ক অব লাভ’ বইতে উল্লেখ করেছেন, ‘অনেকেই অভিযোগ করেন যে, সম্পর্কে সঙ্গীর চেয়ে তিনি বেশি ভালোবাসছেন, যা তাকে মানসিকভাবে দুর্বল বা অরক্ষিত করে তুলছে। আবার অন্য পক্ষ অপরাধবোধে ভোগেন যে, তিনি হয়তো সমপরিমাণ ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে পারছেন না।’
তবে এই বিশেষজ্ঞের কথায়, “সমতা মানেই নিখুঁত নয়। একজন, অন্যজনের চেয়ে কিছুটা বেশি গভীরভাবে ভালোবাসতেই পারেন, যদি অন্য পক্ষের ভালোবাসার গভীরতা সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য পর্যাপ্ত ও গভীর হয়।”
সমস্যা সমীকরণে নয়, সমস্যা তখনই হয় যখন এই অসমতা মনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি করে।