একটি দেশের ওপর ভর করা রেমিটেন্স কতটা নিরাপদ

বিডি নিউজ ২৪ শোয়েব সাম্য সিদ্দিক প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০:০৬

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই মুহূর্তে সৌদি আরবগামী অনেক শ্রমিক ফ্লাইটের আশায় অপেক্ষা করছেন। কারও ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে, কারও ছুটির শেষ দিন পেরিয়ে যাচ্ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের তথ্য, সৌদি বিমানবন্দরে চলাচলের সীমাবদ্ধতায় ৬২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন ৯ হাজার ৬৭৪ যাত্রী, যাদের বড় অংশ প্রবাসী শ্রমিক। ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে দুজন বাংলাদেশি। বিমান বাংলাদেশ রিয়াদের ফ্লাইট স্থগিত রেখেছে, আর দাম্মামে ২১ অক্টোবর থেকে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করছে।


এই মানুষগুলোর পাঠানো টাকাই এখন অর্থনীতির সবচেয়ে ভরসার জায়গা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রেকর্ড ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছে, আগের বছরের ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়নের চেয়ে যা প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে রপ্তানি আয় ওই অর্থবছরে ২ শতাংশ কমে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। অর্থাৎ রপ্তানি যখন ধীর, তখন বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য অনেকটাই প্রবাসীদের কাঁধে। ভরসা যত বড় হয়, তার ভিত নিয়ে প্রশ্নও তত জরুরি হয়ে ওঠে।


মোট প্রবাহ তো বাড়ছে, তাহলে দুশ্চিন্তা কিসের? দুশ্চিন্তা আসলে বৃদ্ধির চরিত্র নিয়ে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, গত অর্থবছরে সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলার, মোট প্রবাহের যা প্রায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের বছর সৌদি থেকে এসেছিল ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ সৌদি থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ৩৭ শতাংশ, যেখানে মোট প্রবাহ বেড়েছে ১৭ শতাংশের কিছু বেশি।


আমার হিসাবে এক বছরে সৌদির হিস্যা প্রায় ১৪ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশে উঠেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সেটা দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ২ শতাংশে, অঙ্কে যা ১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার, গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে আমিরাত থেকে রেমিটেন্স কমেছে ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ, মালয়েশিয়া থেকে ১৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। প্রথম প্রান্তিকে মোট রেমিটেন্স যতটা বেড়েছে, তার কতটা এসেছে সৌদি থেকে? আমার হিসাবে প্রায় ৪২ শতাংশ। বৃদ্ধির ভার ক্রমেই এক দেশের কাঁধে চেপে বসছে।


শ্রমবাজারেও একই চিত্র। বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিদেশে গেছেন ১১ লাখের বেশি কর্মী, তার মধ্যে সাড়ে ৭ লাখের বেশি গেছেন সৌদি আরবে, যা এক বছরে একক কোনো দেশে এত কর্মী পাঠানোর রেকর্ড। অথচ ২০২৩ সালে মোট ১৩ লাখের বেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন। অর্থাৎ মোট বিদেশগামী কমেছে, সৌদির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। সৌদিতে এখন প্রায় ৩৫ লাখ বাংলাদেশি কাজ করেন।


এখানে একটি সূক্ষ্ম বিষয় আছে। আজ যে রেমিটেন্স আসছে, তা যারা আগে থেকেই বিদেশে আছেন তাদের আয়। আগামী বছরের প্রবাহ নির্ভর করবে আজ কত নতুন কর্মী যেতে পারছেন তার ওপর, আর বিমানের ফ্লাইট বাতিলের এই সময়ে ওই যাত্রা থমকে আছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল, পশ্চিম এশিয়া গত অর্থবছরের রেমিটেন্সের প্রায় অর্ধেক জোগান দিয়েছে। সংকট দীর্ঘ হলে প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও