স্কুল আছে তো শিক্ষক নেই। শিক্ষক আছে তো শ্রেণিকক্ষে চেয়ার-টেবিল নেই। শ্রেণিকক্ষে চেয়ার-টেবিল আছে তো পাখা নেই; এসি ‘দূর-কা-বাত’। আবার কোনো স্কুলের শ্রেণিকক্ষে পাখা আছে তো ছাদ ফুটো, বৃষ্টি হলে পানি পড়ে!—এ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম সামরিক পরাশক্তি, উন্নত ও ইউরোপের তৃতীয় এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্সের শিক্ষাঙ্গনের চিত্র।
এসব দেখে দেশটির শিক্ষার্থীরা ক্ষেপে যায়। গত সেপ্টেম্বরে তারা রাস্তায় নেমে প্রথমে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করেছিল। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছিল। সরকার প্রথমে নীরব থাকে। ফলে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে ফ্রান্সের শহরগুলোয়।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে পর্যায়ক্রমে যোগ দেয় দেশটির বেকার-গৃহহীন মানুষ। গতি পায় আন্দোলন। পুলিশ হস্তক্ষেপ করে সেসব অনুমোদনহীন আন্দোলন দমাতে। এক পর্যায়ে অহিংস আন্দোলন সহিংস হয়ে উঠে। এতটাই সহিংস হয় যে দৃষ্টি পড়ে বিশ্বমিডিয়ার।
পরে মুখ খোলেন দেশটির রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল মাখোঁ। বলেন, ফ্রান্সে ‘সহিংসতার কোনো স্থান নেই’। কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে কোথাও কোথাও সেনা নামে, কারফিউ জারি হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কারণে এমন সহিংস আন্দোলন সেসব কারণ দূর করতে প্রকাশ্যে কোনো দিক নির্দেশনা দিতে শোনা যাচ্ছে না ফরাসি রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীকে।
এরই মধ্যে, বিক্ষোভকারীরা মধ্য ফ্রান্সের দৃষ্টিনন্দন লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক ‘টাউন হল’ পুড়িয়ে দিলে সেই আগুনের ‘উত্তাপ’ নিয়ে আলোচনা শুরু হয় দেশে দেশে।
সাংস্কৃতিক দিক থেকে লিমোজ শহরটি ইউনেস্কোর ‘সৃজনশীল’ শহরের তালিকাভুক্ত। ১৮৮৩ সালে তৈরি এই শহরের ‘নব্য রেনেসাঁ’ শৈলীর টাউন হল ভবনটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মান নাৎসিদের হাত থেকে রক্ষা পেলেও, এবারের বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। ক্ষোভের আগুনে পুড়ে যায় শহরের ঐতিহাসিক ভবনটি।