বিশ্ববাজারে ব্যাপক দরপতনের মধ্যে পড়েছে সোনা। প্রায় দুই মাস ধরে টানা দাম কমছে। বিশ্ববাজারে ব্যাপক দরপতন হওয়ায় বাংলাদেশের বাজারেও সোনার দাম কমানো হয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে দরপতন হয়েছে বাংলাদেশের বাজারে সেই হারা দাম কমেনি।
গত দুই মাসে দেশের বাজারে সব থেকে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে কমানো হয়েছে সাড়ে ২৩ হাজার টাকা। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে এক ভরি সোনার দাম কমেছে ৩৪ হাজার টাকার ওপরে। বিশ্ববাজারে সোনা লেনদেন হয় আউন্স হিসাবে। এক আউন্স সোনায় ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম হয়। আর ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে হয় এক ভরি। এ হিসাবে এক আউন্স সোনায় ২ দশমিক ৪৩ ভরি হয়।
তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববাজারে এক আউন্স সোনার দাম ছিল ৪ হাজার ৬৫৮ ডলার। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে এখন তা ৩ হাজার ৯৯৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৬৬৪ ডলার। প্রতি ডলার ১২৫ টাকা ধরলে এক আউন্স সোনার দাম কমেছে ৮৩ হাজার টাকা। আর এক ভরি সোনার দাম কমেছে ৩৪ হাজার ১৪৯ টাকা।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমার পাশাপাশি দেশের বাজারেও সোনার দাম কমানো হয়েছে। দেশের বাজারে সোনার দাম নির্ধারণের দায়িত্ব পালন করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ২৫ আগস্ট থেকে শনিবার (২৪ অক্টোবর) পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৮ বার সোনার দাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বার দাম কমানো হয়েছে এবং ৫ বার দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটেছে।
এর মধ্যে শেষ তিন দফা টানা দাম কমানো হয়েছে। এই তিন দফায় সব থেকে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ৭ হাজার ১১৫ টাকা। আর সর্বশেষ ২৩ অক্টোবর ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা।
এতে এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনা ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনা ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।