প্রবাসী বাঙালির অর্থহীন কর্মকাণ্ডে অর্থের অপচয়

যুগান্তর আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫১

উন্নত দেশগুলোতে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশির সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অবদান। তাদের জীবনমানের উন্নতি ঘটেছে এবং আমেরিকান মূলধারায় তাদের সন্তানদের অংশগ্রহণ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। কিন্তু এর পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের কিছু অর্থহীন কর্মকাণ্ডও হাস্যকর ও সংক্রামকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নব্বইয়ের দশক থেকে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের অন্যতম আকর্ষণীয় দেশে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।


এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৮৯ সালে সংক্ষিপ্ত মেয়াদের জন্য চালু করা ‘ওপি-১ ভিসা’ কর্মসূচি এবং ১৯৯০ সাল থেকে দীর্ঘমেয়াদের জন্য চালু করা ‘ডিভি ভিসা’ কর্মসূচি চালু করার ফলে। এ দুটি কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ থেকে অন্তত ৫০ হাজার আবেদনকারী ও তাদের পরিবার বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যান্য ভিসা ক্যাটাগরিতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হয়েছেন। অবৈধভাবেও প্রচুর বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।


‘ডিভি ভিসা’ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশ থেকে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার কোটা পূর্ণ হওয়ায় ২০১২ সালের পর এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ থেকে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বন্ধ হয়েছিল। সিকি শতাব্দী কেটে যাওয়ার পর এ ভিসা কর্মসূচিতে আবারও বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অভিবাসনের সুযোগ আসছে বলে জানা গেছে। গত সাড়ে তিন দশকে যেসব বাংলাদেশি এদেশে থিতু হয়েছেন, তারা তাদের নিজস্ব পেশাগত কাজকর্মের বাইরে গড়ে তুলেছেন মসজিদ, মন্দির, স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গঠন করেছেন নানা আঞ্চলিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও জনবহুল সিটি নিউইয়র্ক, যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অধিক। এখানে ছোট-বড় যে কোনো কাজের সুযোগ প্রায় অবারিত এবং অভিবাসীবান্ধব ডেমোক্রেট নিয়ন্ত্রিত নগরী হওয়ার কারণে নিউইয়র্ক সিটি বাংলাদেশিসহ বহু দেশের বৈধ-অবৈধ অভিবাসীদের জন্য অনেকটা ‘অভয়ারণ্য’। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অর্ধেকই বসবাস করেন নিউইয়র্ক সিটিতে। এ সংখ্যা আনুমানিক দেড় লাখ।


অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশিদের প্রায় তিনশ আঞ্চলিক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন রয়েছে। এ সংগঠনগুলোর অধিকাংশই জেলা-উপজেলাভিত্তিক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক, পেশাভিত্তিক; এমনকি বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে উত্তীর্ণ হওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যাচভিত্তিক সংগঠনও আছে। এসব ছাড়া নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগ, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশিদেরও পৃথক সমিতি রয়েছে। কোনো কোনো জেলা ও উপজেলাভিত্তিক সংগঠনে নেতৃত্বের কোন্দলে, তহবিল তছরুপের অভিযোগে একই জেলা-উপজেলার নামে একাধিক সংগঠনের আবির্ভাব ঘটেছে। অভিন্ন কারণে বাংলাদেশিদের দ্বারা পরিচালিত মসজিদ-মন্দির কমিটিতে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে এবং কাছাকাছি দূরত্বে নতুন মসজিদ গড়ে ওঠার দৃষ্টান্তও আছে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, এসব সংগঠনের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানদের কোনো সংস্রব বা সম্পর্ক নেই।


নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গড়ে তোলা বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে ব্যতিক্রম হিসাবে বিবেচনা করা হয় ‘বাংলাদেশ সোসাইটি’কে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৫। বাংলাদেশ সোসাইটির ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার। যেসব বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিকত্ব লাভ করেছেন, গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের জন্য অনুমোদনপ্রাপ্ত এবং যারা যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে বৈধতা নিয়ে বসবাস করছেন, কেবল তারাই এ সংগঠনের সদস্য হতে পারেন। আগামীকাল বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে নিউইয়র্কজুড়ে বাংলাদেশিদের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সোসাইটির কার্যনির্বাহী পদসংখ্যা একুশ। দুটি প্যানেলে প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কমিটির মেয়াদ আগে দুই বছরের জন্য থাকলেও আগামী কমিটি হবে তিন বছরের জন্য। নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে পাঁচটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও