‘ভালো আছি’—সমাজের সবচেয়ে প্রচলিত মিথ্যা

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৭

ভালো আছি’—দুটি শব্দ। কথোপকথনে এর চেয়ে সহজ উত্তর হয়তো আর নেই। ফোনের ওপাশ থেকে কেউ জিজ্ঞেস করে, ‘কেমন আছ?’ আমরা প্রায় অভ্যাসবশত বলি, ‘ভালো আছি।’ অথচ অনেক সময় এই ‘ভালো আছি’র ভেতরে জমে থাকে ক্লান্তি, একাকিত্ব, অভিমান, অনিশ্চয়তা কিংবা এমন কোনো কষ্ট, যার কথা বলার মতো মানুষটি পাশে নেই। কখনো কখনো মানুষটি নিজেও জানে না, কীভাবে সেই কষ্টের নাম দিতে হয়।


সমস্যাটা এখানেই। আমরা কেমন আছি—এই প্রশ্নটি এখন অনেক ক্ষেত্রে কেবল সৌজন্যের প্রশ্ন। আর ‘ভালো আছি’ হয়ে উঠেছে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য একটি স্বয়ংক্রিয় উত্তর। কেউ সত্যিই ভালো আছেন কি না, তা জানার আগেই আমরা উত্তর পেয়ে যাই। প্রশ্নকারীও নিশ্চিন্ত হন, উত্তরদাতাও কথোপকথন থেকে নিরাপদে বেরিয়ে আসেন। অথচ হয়তো দুজনের মাঝখানে তখন একটি অদৃশ্য দরজা বন্ধ হয়ে গেল। মানুষের জীবনে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন তার খুব বেশি কিছু দরকার হয় না—শুধু একজন মানুষ দরকার, যে দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করবে, ‘সত্যি ভালো আছ?’


এই দ্বিতীয় প্রশ্নটির অভাবই হয়তো আমাদের সময়ের বড় সামাজিক সংকটগুলোর একটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের সামাজিক সংযোগবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি ছয়জনের একজন একাকিত্ব অনুভব করেন। কিশোর ও তরুণদের মধ্যে এ হার আরও বেশি—১৩ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের প্রায় ১৭ থেকে ২১ শতাংশ একাকিত্ব অনুভব করার কথা জানিয়েছেন। নিম্ন আয়ের দেশগুলোতেও একাকিত্বের হার উচ্চ; সেখানে প্রায় চারজনের একজন এ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।


সংখ্যাগুলো আমাদের থামিয়ে ভাবায়। কারণ একাকিত্ব মানেই একা থাকা নয়। একজন মানুষ চারপাশে অনেক মানুষের মধ্যেও একা হতে পারেন। তাঁর ফোনে শত শত নম্বর থাকতে পারে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজারো পরিচিতি থাকতে পারে, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের সঙ্গে কথা হতে পারে—তবু সন্ধ্যায় ঘরে ফিরে মনে হতে পারে, ‘আমার কথা শোনার মতো কেউ নেই।’


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একাকিত্বকে কেবল মানুষের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করে না। একজন মানুষের কাঙ্ক্ষিত সামাজিক সম্পর্ক ও বাস্তবে পাওয়া সম্পর্কের মধ্যে যে ব্যবধান, সেই বেদনাদায়ক অনুভূতিই একাকিত্ব। অর্থাৎ ভিড়ের মধ্যেও নিঃসঙ্গতা সম্ভব।


আমাদের সামাজিক জীবনে ‘ভালো থাকার’ একটি অভিনয়ও তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা সাধারণত জীবনের সম্পাদিত সংস্করণটি দেখাই। হাসিমুখের ছবি, ভ্রমণের ছবি, সাফল্যের খবর, নতুন কেনাকাটা, উৎসব, পারিবারিক আনন্দ—সবই সেখানে থাকে। থাকে না রাত জেগে থাকা উৎকণ্ঠা, ব্যর্থতার লজ্জা, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কষ্ট, চাকরি হারানোর ভয়, সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ কিংবা বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নিঃসঙ্গতা। ফলে অন্যের জীবনকে আমরা দেখি তার প্রদর্শিত অংশ দিয়ে, আর নিজের জীবনকে বিচার করি তার অপ্রকাশিত কষ্ট দিয়ে। এই তুলনা মানুষকে আরও নিঃসঙ্গ করে।


সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও