দক্ষিণ চীন সমুদ্রে আধিপত্যের লড়াই

www.ajkerpatrika.com শাম্মী শফিক জুঁই প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৮

মানচিত্রের দিকে তাকালে হয়তো দক্ষিণ চীন সাগরকে শুধুই নীল জলের বিস্তার বলে মনে হবে। কিন্তু এর পানির নিচে জমা হয়ে আছে শত শত কোটি ডলারের ব্যবসা, জ্বালানির বিপুল ভান্ডার আর পরাশক্তির দাবার বোর্ড। যে এই বোর্ড নিয়ন্ত্রণ করবে, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাণিজ্যের চাবিকাঠি থাকবে তার হাতে। চীন যে নদীকে বলছে নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার, যুক্তরাষ্ট্র তাকে আখ্যা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক জলসীমার স্বাধীনতা—এ দুই পরাশক্তির টানাপোড়েনে প্রতিনিয়ত কাঁপছে দক্ষিণ এশিয়ার ছোট দেশগুলো।


দক্ষিণ চীন সাগর চীনে অবস্থিত পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রান্তিক সাগর, যা এর ভৌগোলিক অবস্থান, বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং তীব্র ভূরাজনৈতিক বিরোধের কারণে বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান কৌশলগত ও উত্তপ্ত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। এটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমে এশিয়ার মূল ভূখণ্ড, পূর্বে তাইওয়ান ও ফিলিপাইন, দক্ষিণে বোর্নিও ও সুমাত্রা এবং পশ্চিমে মালয় উপদ্বীপ ও ভিয়েতনাম দ্বারা বেষ্টিত। প্রায় ৩৫ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই সাগরের গড় গভীরতা প্রায় ৩ হাজার ৯৭৬ ফুট। দক্ষিণ চীন সাগরকে বৈশ্বিক বাণিজ্যের রক্তনালি বলা হয়। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক করিডর দিয়ে প্রতিবছর ট্রিলিয়ন ডলারের পণ্য পরিবাহিত হয়, যা আন্তর্জাতিক অর্থনীতির চাকা সচল রাখে।


বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে যে পরিমাণ পণ্য পরিবহন করা হয়, তার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই দক্ষিণ চীন সাগর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বেইজিং এই অঞ্চলে তার নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র বা অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের প্রভাব প্রতিহত করতে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতি ও কৌশল ব্যবহার করছে।


চীন ১৯৪০-এর দশকের একটি মানচিত্রের ওপর ভিত্তি করে দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় ৯০ শতাংশ এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে। আন্তর্জাতিক আদালত ২০১৬ সালে এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই বলে রায় দিলেও চীন তা প্রত্যাখ্যান করে তার অবস্থানে অনড় রয়েছে। তারা এই জলসীমাকে তাদের সার্বভৌম অধিকার এবং দেশের মূল নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। আর এ কারণেই আজ দক্ষিণ চীন সাগর শুধু একটি ভৌগোলিক জলসীমা নয়, বরং বাণিজ্যাধিপত্য বিস্তারের এক অদৃশ্য যুদ্ধক্ষেত্র। এই লড়াইয়ে চীন এর ঐতিহাসিক অধিকারের ওপর ভিত্তি করে পুরোটা নিজেদের বলে দাবি করছে। শুধু দাবি করে ক্ষান্ত হয়নি, সাগরে কৃত্রিম দ্বীপ তৈরি করে সামরিক ঘাঁটি বানিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ফলে ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের মতো প্রতিবেশী ছোট দেশগুলো চরম উদ্বেগের মধ্যে আছে। তারা আন্তর্জাতিক আইনের কথা বললেও চীন শক্তির জোরে তা মানে না। অন্যদিকে চীনের এই প্রভাব থামাতে অবাধ বাণিজ্যের কথা বলে যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্রদেশগুলো এই অঞ্চলে তাদের যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে। ফলে দুই পরাশক্তির মুখোমুখি অবস্থানে পুরো পরিস্থিতি দিন দিন আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে।

এই ক্ষমতার লড়াই শুধু আঞ্চলিক কোনো বিষয় নয়; বরং এটি পুরো বিশ্বের জন্য এক বিশাল হুমকি। এখানে কোনো কারণে সংঘাত বাধলে, তার প্রভাব পড়বে বিশ্বজুড়ে। পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাবে, জিনিসের দাম বাড়বে এবং ক্ষতি হবে সব দেশের অর্থনীতির। বিশ্বের জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। এই পথ ব্যাহত হলে শিপিং খরচ বহুগুণ বেড়ে যাবে। ফলে আমদানি করা সব পণ্যের দাম হু হু করে বাড়বে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বাড়িয়ে দেবে।


সামরিক উত্তেজনা ও কৃত্রিম দ্বীপ তৈরির কারণে এখানকার সামুদ্রিক পরিবেশ ও প্রবালের প্রাচীর ধ্বংস হচ্ছে। অঞ্চলটির কোটি কোটি মানুষের প্রোটিনের প্রধান উৎস এই সাগরের মাছ। সংঘাত বাড়লে সামুদ্রিক মাছ ধরা বন্ধ হয়ে তীব্র আমিষের সংকট দেখা দিতে পারে। এই সংকট কেন্দ্র করে এশিয়ার দেশগুলো এখন নিজেদের সামরিক বাজেট অস্বাভাবিকভাবে বাড়াচ্ছে। সবাই নতুন নতুন যুদ্ধজাহাজ ও ক্ষেপণাস্ত্র কিনছে। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা দারিদ্র্য বিমোচনের টাকা চলে যাচ্ছে সামরিক খাতে, যা দীর্ঘ মেয়াদে মানব উন্নয়নের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও