ঢামেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট: রোগী ঢুকতে পারলেও বেরোনো কঠিন
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র। উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন এখানে ছুটে আসেন হাজারো রোগী ও তাদের স্বজন। তবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঢোকা সহজ হলেও রোগী নিয়ে বের হওয়া কঠিন। কারণ অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হাতে রীতিমতো জিম্মি এই হাসপাতাল। অ্যাম্বুলেন্সের মালিক, চালক এবং স্থানীয় চাঁদাবাজরা মিলেমিশে এক বিশাল চক্র গড়ে তুলেছে।
রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সিন্ডিকেট সদস্যদের অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স ঢাকা মেডিকেলের রোগী নিতে পারে না। এক্ষেত্রে এক অঘোষিত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আদায় করা হয় ইচ্ছামতো ভাড়া। দূরত্ব যাই হোক না কেন অ্যাম্বুলেন্সে উঠলেই ভাড়া গুনতে হয় ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। এর সঙ্গে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জের নামে অতিরিক্ত আরও অর্থ আদায় করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা মেডিকেলে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমাতে কয়েক মাস আগে একটি বেসরকারি আইটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে চালু হয় ‘অল সমাধান’ নামের মোবাইল অ্যাপস। যেখানে ন্যায্যমূল্যে অ্যাম্বুলেন্স থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় বেশকিছু সেবা পাওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অল সমাধান অ্যাপসও সেভাবে কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।
ফাঁদ : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে লালবাগের ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করলে দিতে হয় ৩ হাজার টাকা। এর সঙ্গে বাড়তি যোগ হয় সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাট ২৮০ টাকা, হুইলচেয়ার ১০০ টাকা, সাপোর্ট স্টাফ ৫০০ এবং বকশিশ একশ টাকা। সব মিলিয়ে খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা। অথচ একই দূরত্বে যেতে উবারের প্রিমিয়ার সার্ভিসে সর্বোচ্চ খরচ পড়ে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিনশ টাকা।
- ট্যাগ:
- স্বাস্থ্য
- সিন্ডিকেট
- অ্যাম্বুলেন্স