মাটির নিচে লুকিয়ে থাকা কেঁচোকে বাইরে বের করে আনতে পারেন? তাও আবার মাত্র ৩০ মিনিটে শত শত কেঁচো! শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা হয় যুক্তরাজ্যে। নাম ‘ওয়ার্ম চার্মিং’। এখানে কেঁচো ধরতে শুধু হাতের দক্ষতা নয়, কাজে লাগে মাটিতে কম্পন তৈরি করার কৌশলও। আর এই অদ্ভুত প্রতিযোগিতাতেই মাত্র ১০ বছর বয়সে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল যুক্তরাজ্যের এক শিশু।
কী এই ওয়ার্ম চার্মিং?
ওয়ার্ম চার্মিংয়ের সহজ বাংলা অর্থ হতে পারে কেঁচোকে মাটি থেকে বের করে আনার কৌশল। এটি মূলত মাছ ধরার টোপ সংগ্রহের একটি পুরোনো পদ্ধতি। ভেজা মাটির ওপর বিশেষভাবে কম্পন তৈরি করা হয়। সেই কম্পনের প্রভাবে মাটির নিচে থাকা কেঁচো গর্ত থেকে ওপরে উঠে আসে। তখন সেগুলো সংগ্রহ করা যায়।
এই পদ্ধতির নাম শুনে মনে হতে পারে, কেঁচোকে বুঝি কোনো মন্ত্র বা সুর দিয়ে আকৃষ্ট করা হয়। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই তেমন নয়। মাটিতে কম্পন সৃষ্টি করাই এর মূল কৌশল। গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের কম্পন কেঁচোর প্রাকৃতিক শিকারি মোল বা মাটিখোঁড়া স্তন্যপায়ী প্রাণীর চলাচলের সঙ্গে সম্পর্কিত সংকেতের মতো কাজ করতে পারে। ফলে কেঁচো মাটির ওপরে উঠে আসতে পারে।
১০ বছর বয়সে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে শিশু
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সোফি স্মিথ ২০০৯ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়ার্ম চার্মিং চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র ১০ বছর বয়সে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। সে ৩০ মিনিটে ৫৬৭টি কেঁচো সংগ্রহ করে বিশ্বরেকর্ড গড়ে। এই রেকর্ড ভাঙতে হলে একই সময়ের মধ্যে তার চেয়ে বেশি কেঁচো সংগ্রহ করতে হবে। তবে শুধু কেঁচোর সংখ্যা নয়, প্রতিযোগিতায় নিয়ম মেনে কাজ করাও গুরুত্বপূর্ণ।