চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে, ৩ বছরে ৫৪ জনের মৃত্যু, মরদেহও আসে না

প্রথম আলো প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৪

পরিবারের ভাগ্য ফেরাতে উন্নত চাকরির আশায় রাশিয়ায় যান লালমনিরহাটের আবদুল্লাহ আল মামুন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। দেশটিতে গিয়ে তাঁর ঠাঁই হয় যুদ্ধের ক্যাম্পে। প্রশিক্ষণ শেষে যুদ্ধে পাঠানোর আগের দিন দেশে থাকা ছোট ভাই মো. রনিকে ফোন করে মামুন বলেন, ‘যুদ্ধে পাঠিয়ে দিচ্ছে, আর দেখা না-ও হতে পারে। দুনিয়ায় দেখা না হলে দেখা হবে হাশরের মাঠে।’


প্রথম আলোকে কথাগুলো বলছিলেন মামুনের বাবা আবদুল মজিদ। তিনি বলেন, যুদ্ধে নেওয়ার পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি। পরে তাঁর সঙ্গে রাশিয়ায় যাওয়া আল আমিনকে আবার ফোন করেন রনি। আল আমিন জানান, মামুন মারা গেছেন। এরপর গ্রামে গায়েবানা জানাজার আয়োজন করা হয়। কিন্তু মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়ায় লোকজন এসে জানাজা না পড়ে মোনাজাত করেন। এরই মধ্যে পাঁচ মাস পার হয়ে গেছে। ঋণগ্রস্ত পরিবার এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। এক বছরের একটি ছেলেশিশুকে নিয়ে মামুনের স্ত্রীর সামনে শুধুই অন্ধকার।


ভালো বেতনে চাকরির আশায় গত ৭ মে ঢাকা থেকে মামুনসহ ৩০ জন বাংলাদেশি যান রাশিয়ায়। কিন্তু সেখানে ২১ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে ১৬, ৮ ও ৬ জনের গ্রুপে ভাগ করে তাঁদের যুদ্ধে পাঠানো হয়। তাঁদের অনেকেই ১২ ও ১৩ জুনের দিকে মারা যান। দুজন হাসপাতালে ভর্তি হন, পরে পালিয়ে দেশে ফেরেন। এদের একজন নারায়ণগঞ্জের আদনান হোসেন ও আরেকজন ঝিনাইদহের রাজন হোসেন। তাঁরা অন্যদের মৃত্যুর তথ্য প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।


কয়েক বছর ধরেই রাশিয়ায় যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তাঁদের অনেকেই প্রতারিত হয়ে রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়ে যাচ্ছেন। তবে তাঁদের মরদেহ পাওয়া যায় না। কাগজে–কলমে নিখোঁজ বলা হলেও পরিবার জানে, তাঁরা মৃত। এখন পর্যন্ত গত তিন বছরে অন্তত ৫৪ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছে প্রথম আলো। যদিও বর্তমান সরকার রাশিয়া যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও