মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ: সিন্ডিকেট নয়, সুরক্ষিত হোক শ্রমিকের স্বার্থ

জাগো নিউজ ২৪ ড. হারুন রশীদ প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৫

বিদেশে কাজ করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের একজন শ্রমজীবী মানুষের কাছে নিছক পেশা পরিবর্তনের বিষয় নয়; এটি প্রায়ই একটি পরিবারের ভাগ্য বদলে দেওয়ার স্বপ্ন। গ্রামের সামান্য জমি বিক্রি, স্ত্রীর গয়না বন্ধক, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে ধার কিংবা সুদে ঋণ—সবকিছু মিলিয়ে একজন তরুণ যখন বিমানে ওঠেন, তখন তাঁর সঙ্গে দেশ ছাড়ে একটি পরিবারের বহু বছরের সঞ্চয় ও প্রত্যাশা। বিদেশে গিয়ে আয় করবেন, ঋণ শোধ করবেন, বাড়ি করবেন, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করবেন—এই স্বপ্নই তাঁকে অজানা জীবনের পথে ঠেলে দেয়। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যদি নিয়োগপ্রক্রিয়ার অনিয়ম, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় কিংবা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের শিকার হতে হয়, তাহলে সেই স্বপ্ন পরিণত হয় দীর্ঘস্থায়ী দুঃস্বপ্নে।


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে আলোচনা তাই কেবল দুই দেশের শ্রমবাজারের সম্পর্ক কিংবা কতজন কর্মী পাঠানো যাবে, সেই হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। এর কেন্দ্রে রাখতে হবে মানুষকে—তাঁর শ্রম, মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তাকে। শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু সেই সুযোগ যেন মধ্যস্বত্বভোগীদের মুনাফা অর্জনের নতুন ক্ষেত্র হয়ে না ওঠে, সেটি নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের বড় দায়িত্ব।


মালয়েশিয়া বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার। নির্মাণ, উৎপাদন, সেবা ও বিভিন্ন শ্রমনির্ভর খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা দেশটিকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান দারিদ্র্য হ্রাস, পরিবারের আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। ফলে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রতিটি সিদ্ধান্তের অর্থনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য রয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা আমাদের সতর্ক করে দেয়—বাজার খুললেই শ্রমিকের ভাগ্য খুলে যায় না। নিয়োগব্যবস্থা স্বচ্ছ না হলে কর্মসংস্থানের সুযোগও শোষণের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।


নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা কেন জরুরি


মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো, নিয়োগের নিয়ন্ত্রণ যখন অল্প কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তখন কর্মীর স্বার্থ সহজেই উপেক্ষিত হতে পারে। অতীতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠানো, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।


এই অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ শ্রমবাজার বন্ধ হলে ক্ষতি হয় শুধু জনশক্তি রপ্তানিকারকদের নয়; সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েন সেই কর্মীরা, যাঁরা বিদেশে যাওয়ার আশায় জমি বিক্রি করেছেন, ঋণ নিয়েছেন কিংবা দালালের হাতে টাকা তুলে দিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত বিদেশে যেতে পারেন না, আবার টাকা ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তাও থাকে না। যে পরিবারের আর্থিক মুক্তির জন্য বিদেশযাত্রা, সেই পরিবারই তখন ঋণের ভারে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।


সমস্যাটি কেবল কয়েকজন অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীর নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিয়োগব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা। কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র কীভাবে অনুমোদিত হচ্ছে, কোন প্রতিষ্ঠান কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে, নিয়োগকর্তা কত টাকা দিচ্ছেন, কর্মীর কাছ থেকে কত অর্থ নেওয়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে কার্যকর নজরদারি না থাকলে অনিয়মের সুযোগ থেকেই যাবে। নিয়মকানুন কাগজে যত সুন্দরই হোক, তার প্রয়োগ নিশ্চিত না হলে শ্রমিকের ভাগ্য বদলাবে না।


এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন: বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় মুনাফা অর্জনের অধিকার কার কতটা, আর সেই মুনাফার মূল্য কেন একজন শ্রমিককে বহন করতে হবে? বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারকেরা বৈধভাবে ব্যবসা করবেন, এতে আপত্তির কিছু নেই। কিন্তু ব্যবসার নামে বাজার নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা কর্মীর অসহায়ত্বকে পুঁজি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও