কনেপক্ষ থেকে ব্যবসার জন্য টাকা চাওয়া কি যৌতুক নয়!

প্রথম আলো গোলাম কিবরিয়া প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫৪

আমাদের এক আত্মীয়র খুব ছোটবেলার ঘটনা। জীবনের প্রথম দাওয়াত খেতে যাচ্ছেন। খুদে মানুষটি ভীষণ উত্তেজিত। দাওয়াত, সেটা না জানি কী! কিন্তু দাওয়াত খেতে গিয়ে তাঁর যে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল, সেটা এই মধ্যপঞ্চাশে এসেও তিনি স্মরণ করতে পারেন, ব্যাপারটা তাঁকে এতটাই আশাহত করেছিল।


ঘটনা হচ্ছে, দাওয়াতে যথারীতি পোলাও, রোস্ট, মাংসসহ নানা মুখরোচক পদের আয়োজন ছিল। কিন্তু সেই খুদে অতিথি অপেক্ষায় ছিলেন ‘দাওয়াত’ নামের সেই বিশেষ পদের জন্য। সবশেষে মিষ্টিও চলে এল, কিন্তু তাঁর সেই ‘দাওয়াত’ পদটাই চেখে দেখা হয়নি! অথচ শুরু থেকেই তিনি অপেক্ষায় ছিলেন মজা করে ‘দাওয়াত’ খাবেন বলে। সেই আফসোস তাঁর এখনো আছে।


গল্পটা মনে পড়ল সম্প্রতি যৌতুক বিষয়ে হাইকোর্টের একটি রায়ের পর্যবেক্ষণে, যেখানে বলা হয়েছে, ‘ব্যবসার প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি যৌতুক নয়।’ তাহলে এই ‘যৌতুক’ বস্তুটা আসলে কী, সেটা কেউ আমাকে বুঝিয়ে বলবেন? এটা কি চারকোনা, নাকি গোল? তরল, কঠিন, নাকি বায়বীয়? এটার রং লাল, নীল, নাকি বেগুনি?


এত দিন জানতাম, ব্যবসার নাম করে বা বিদেশযাত্রার জন্য অর্থসংস্থানের কথা বলে কিংবা গাড়ি বা সম্পত্তি কেনার উসিলায় যৌতুক চাওয়া হতো। এখন জানতে পারলাম, এসব কারণে স্ত্রীর কাছে অর্থ দাবি করলে নাকি সেটা যৌতুক নয়। তাহলে যৌতুক জিনিসটা আসলে কী?


প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি, ‘কনেপক্ষের কাছে শুধু ব্যবসার জন্য টাকা দাবি করলেই তা যৌতুক হিসেবে গণ্য হবে না বলে রায়ে বলা হয়েছে। তখনই যৌতুক হবে, যদি বিয়ের সময় অথবা সংসারজীবন চলাকালে টাকা দাবি করে এবং ওই অর্থ না দিলে যদি শর্ত দেওয়া হয় যে ডিভোর্স দেওয়া হবে কিংবা সংসার চালিয়ে না নেওয়ার কথা বলা হলে। শর্ত ছাড়া ব্যবসা, বিদেশে যাওয়া কিংবা গাড়ি কেনার জন্য টাকা চাওয়া হলে তা যৌতুকের সংজ্ঞায় আসে না।’


সংগত কারণেই প্রশ্ন জাগে, স্ত্রীর যদি নিজস্ব কোনো সঞ্চয় না থাকে বা নির্দিষ্ট আয়ের উৎস না থাকে, তাহলে এই অর্থ দাবি করা কতটা যৌক্তিক? কোথা থেকে আসবে এই অর্থ?


যাঁরা পত্রপত্রিকা পড়েন, তাঁদের নিশ্চয়ই বিভিন্ন সময় প্রকাশিত যৌতুক দাবিসংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো চোখে পড়েছে। এগুলো খুব বিরল ঘটনা নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ঘটনাগুলো এমন, স্বামী নানা প্রয়োজনে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করেছেন এবং তা দিতে অস্বীকার করায় বা অপারগতা প্রকাশ করায় সেই স্ত্রী নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে স্ত্রীকে হত্যাও করা হয়েছে।


ফলে আমরা দেখতে পাই, যৌতুকের দাবিগুলো নানা যৌক্তিক প্রয়োজনের ছদ্মাবরণে আত্মপ্রকাশ করে পর্যায়ক্রমে স্বরূপে আবির্ভূত হয়, যেটা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রক্তক্ষয়ী, সহিংস।


সাম্প্রতিক সময়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনের উল্লেখ করা প্রয়োজন। ‘ফ্ল্যাটের টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন, ট্রাফিক সার্জেন্টের কারাদণ্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে আমরা জানতে পারি, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ফ্ল্যাট কিনতে স্ত্রীর কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন নাজিম। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় ২০২০ সালের মার্চ ও জুনের বিভিন্ন তারিখে স্ত্রীকে মারধর করেন তিনি।


ওই বছরের ১৭ আগস্ট স্ত্রী আশরেফা জাহান বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দেয়। ৯ সাক্ষীর সাক্ষ্য শেষে আদালত রায় দেন।


আরেকটি প্রতিবেদনের শিরোনাম হচ্ছে ‘যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্ত্রীর চুল কেটে পালালেন সেলুনকর্মী’। এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীন ইসলাম পেশায় সেলুনকর্মী। বর্তমানে নরসিংদীতে সেলুনে কাজ করেন। একসময় ঢাকার বসুন্ধরা এলাকায় একটি সেলুনে কাজ করতেন। কয়েক দিন ধরে নরসিংদীতে নতুন একটি সেলুন দিতে স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন দ্বীন ইসলাম ও তাঁর মা-বাবা। এতে রাজি না হওয়ায় প্রায়ই স্ত্রীকে মারধর করতেন দ্বীন ইসলাম।


লক্ষ করুন, এ দুটি ঘটনার ক্ষেত্রে কোথাও কিন্তু সরাসরি ‘যৌতুক’ চাওয়া হয়নি, খুব ‘সংগত’ কারণেই ‘ফ্ল্যাট কেনা’ বা ‘সেলুনের ব্যবসা’ দেওয়ার জন্য টাকা চাওয়া হয়েছে। এমন আরও অনেক উদাহরণ দেওয়া সম্ভব। আগ্রহী ব্যক্তিরা একটু কষ্ট করে গুগল সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও