ইসরায়েলের নির্বাচনে ‘কিংমেকার’ কে এই আব্বাস, নেতানিয়াহুকেও সরিয়েছিলেন তিনি
ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণাগুলোর ওপর নজর রাখলেই যেকোনো সাধারণ মানুষের মনে হতে পারে দেশটির ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি মনসুর আব্বাস। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারণায় তাঁকে সেভাবেই তুলে ধরা হচ্ছে।
মনসুর আব্বাস ইসরায়েলের ‘ইউনাইটেড আরব লিস্ট’ বা ‘রাম’ নামে ইসলামপন্থী একটি রাজনৈতিক দলের নেতা। নেতানিয়াহু নির্বাচনী প্রচারণায় ইহুদি ভোটারদের সতর্ক করে বলছেন, তিনি ক্ষমতাচ্যুত হলে পরবর্তী সরকারের আসল ক্ষমতার চাবিকাঠি থাকবে মনসুর আব্বাসের হাতে, যা ইসরায়েলের জন্য ‘ঘরের ভেতরের’ বিপদ। ডানপন্থী ইসরায়েলিরা যাঁকে সবচেয়ে বেশি ভয় পান, সেই ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পেছনে প্রধান চালিকা শক্তি এই মনসুর আব্বাস।
বাস্তবতা হলো, নির্বাচনে মনসুর আব্বাসের ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলোর সঙ্গে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং গাজার সম্পর্ক সামান্যই। বরং তাঁর পুরো মনোযোগ ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের ওপর। ইসরায়েলের জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই ইসরায়েলি আরব। ইসরায়েলের কট্টরপন্থী ইহুদিদের সহিংস অপরাধ ও বৈষম্যমূলক আবাসন নীতির ভুক্তভোগী এই নাগরিকেরা।
মনসুর আব্বাসের বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর আক্রমণাত্মক প্রচারণার একটি বিষয়কে বিশেষভাবে গুরুত্ববহ করে তোলে। সেটা হলো, আসন্ন নির্বাচনে মনসুর আব্বাসই শেষ পর্যন্ত ‘কিংমেকার’ বা সরকার গঠনের নিয়ামক হয়ে উঠতে পারেন। এর আগেও তিনি এই ভূমিকা পালন করেছেন। ইসরায়েলের বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নেতানিয়াহুর বিরোধী জোট যদি মনসুর আব্বাসের সমর্থন না নেন, তবে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো যথেষ্ট বড় জোট গঠন করতে পারবে না।