দক্ষিণ এশিয়ার গণ-প্রত্যাখ্যান পর্বের শেষ কোথায়

প্রথম আলো আলতাফ পারভেজ প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১:১৪

দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বশেষ গণ–অভ্যুত্থান হয় গত বছর এ রকম সময়। নেপাল সেই রাজনৈতিক পরিবর্তনের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব কষছে এখন। ঠিক সেই সময় ভারত-পাকিস্তানে তুমুল রাজনৈতিক বিক্ষোভ শুরু হলো। দিল্লি ও ইসলামাবাদ উভয় জায়গায় অসন্তোষে কাছাকাছি ধরনের কিছু দাবি আছে। নির্বাচনী দুর্নীতি প্রধান এক ক্ষোভের জায়গা। ভারতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্পর্কে যেসব পুরোনো মিথ ছিল, শাসকদের দুষ্কর্মে তার অনেকখানি বিলীন হয়েছে ইতিমধ্যে। রাজপথে নামা তরুণেরা অবক্ষয়ের শিকার রাজনৈতিক সংস্কৃতি পুনর্গঠন করতে চান।


পাকিস্তানের বেলায় ইমরান খানের মুক্তি প্রধান এক চাওয়া। ‘ক্যাপ্টেন খান’ ও তাঁর সহযোগীদের আটকিয়ে জেনারেল আসিম মুনির যে ছদ্ম সামরিক শাসন চালাচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে পিটিআই–কর্মীদের ইন্তিফাদা চলছে। বেলুচিস্তান, আজাদ-কাশ্মীর ও পশতুন এলাকায়ও সেনা-জুলুমের বিরুদ্ধে নিয়মিত সহিংস বিক্ষোভ হচ্ছে।


উভয় দেশে এলিটদের নিয়ে সামাজিক হতাশা ও বিরক্তির আরও অনেক গভীর ও বহুমাত্রিক কারণও আছে। অনেকটা নেপাল-শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশের মতো। ভারত-পাকিস্তানের চলতি রাজনৈতিক আন্দোলনের বেশ পদ্ধতিগত মিলও দেখা যাচ্ছে ২০২২ সালের শ্রীলঙ্কা, ২০২৪ সালের বাংলাদেশ এবং ২০২৫ সালের নেপালের সঙ্গে। প্রশ্ন হলো দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশে কেন রাজনৈতিক ক্ষোভ-বিক্ষোভ-অসন্তোষ? এর শেষ কোথায়? কেবল নির্বাচনব্যবস্থা এবং আর্থিক দুর্নীতিই কি সমাজদেহ থেকে উথলে ওঠা কূলভাঙা এই প্রত্যাখ্যানের কারণ?


এ রকম প্রশ্নমালার সাক্ষ্য-প্রমাণনির্ভর উত্তর পাওয়া মুশকিল। প্রকাশ্যে যা দেখা যাচ্ছে—কোথাও ধর্ম, কোথাও সমরবাদী লাঠিতন্ত্র পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং আকাঙ্ক্ষাকে আটকে দিচ্ছে। কমবেশি আট দশক আগে বিদায় নেওয়া ঔপনিবেশিক প্রভুদের কৌশলেই টিকে আছেন স্থানীয় কুলীনরা। কোথাও উগ্র জাতীয়তাবাদ, কোথাও ধর্মের আবরণে জেঁকে বসা প্রভু-ভৃত্য সম্পর্কে মানুষ ক্লান্ত। সেই ক্লান্তি সর্বগ্রাসী এক প্রত্যাখ্যান পর্বের জন্ম দিলেও সমাজ ও রাষ্ট্রের পুনর্গঠন পর্বের হদিস নেই আপাতত।


ভারতে পচনের উন্মোচন বনাম লাঠিতন্ত্র


ভারতে দীর্ঘকাল গেরুয়াকরণ চলছিল নির্বিঘ্নে। ‘ককরোচ’ বা তেলাপোকারা তার পচনশীল চেহারা উন্মোচন করতে শুরু করা মাত্র সেখানে রাস্তায় সারি সারি পুলিশ নামিয়ে দেওয়া হলো। নির্দলীয় ও অহিংস এই প্রতিবাদ বিরোধী দলগুলোকে কাছাকাছি আসা এবং পথে নামার সুযোগ করে দিয়েছে। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত তরুণ সমাজের মধ্যে দেশের উদারনৈতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য উদ্ধারের আকুল তাগিদ দেখা যাচ্ছে।


তবে প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ ও নির্বাচনী প্রশাসনের গভীরে হিন্দুত্ববাদীরা যে জাল বিস্তার করেছে, সেখান থেকে এ দেশকে সুপথে আনা কতটা সম্ভব—এ নিয়ে সন্দেহ কাটছে না। যদিও আরএসএস-বিজেপির নৈতিক ভিত্তি এবং বিপুল ব্যয়ে গড়ে তোলা মোদি-অমিত জুটির সুশীল ইমেজ ইতিমধ্যে ভেঙে দিয়েছেন তরুণেরা।


চলমান এই আন্দোলনের দৃশ্যাবলি থেকে একটু দূরে তাকালে ভিন্ন আরেক ছবিও বেশ নজরে আসে। সেটি হলো তীব্র ধনবৈষম্য এবং বেকারির ক্ষত। বিজেপির দেড় দশকে বড় ব্যবসায়ীদের ব্যাপক উত্থান ঘটলেও কম মজুরি-জীবনের বিশাল এক জনমণ্ডলীও তৈরি হয়েছে। ১৪-১৫ বছর আগে মোদির তথাকথিত ‘গুজরাট মডেল’ কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির যেসব গল্প শুনিয়েছিল, তার ভাঁওতা এখন স্পষ্ট। বেড়েছে কেবল গৌতম আদানির মতো গুটিকয়েক ক্রনি-ক্যাপিটালিস্টের ব্যাংক ব্যালেন্স। ২০২৬ সালে আদানি ফোর্বস–এর বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় ৩১তম জায়গায় আছেন। অথচ এক দশক আগে তাঁর অবস্থান ছিল একই তালিকায় চার শর নিচে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও