পাঁচ-দশ হাজার টাকায় বিনিয়োগ শুরু করবেন কীভাবে?

জাগো নিউজ ২৪ সাইফুল হোসেন প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:৪৯

আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত মিথ বা ভুল ধারণা শিকড় গেড়ে আছে যে বিনিয়োগ শুরু করার জন্য অনেক বড় অঙ্কের টাকার প্রয়োজন হয়। মানুষের মনে সাধারণত এমন একটি ধারণা কাজ করে যে আগে পাঁচ, দশ বা বিশ লাখ টাকা জমাই, তারপর কোথাও বিনিয়োগ করব। এই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে অনেকেই শেয়ারবাজার, মিউচুয়াল ফান্ড, এসআইপি বা যেকোনো ছোট ব্যবসা শুরুর আগে বড় পুঁজির অপেক্ষায় বছরের পর বছর পার করে দেন। কিন্তু এই দীর্ঘ অপেক্ষার সময়ে জীবন থেকে সময় ঠিকই দূরে সরে যায় এবং মানুষ তার আর্থিক স্বাধীনতা অর্জনের কাঙ্ক্ষিত যাত্রা থেকে পিছিয়ে পড়ে।


আপনি যদি মনে করেন যে পাঁচ বা দশ হাজার টাকার মতো একটি ছোট অঙ্ক বিনিয়োগের জন্য মোটেও উপযুক্ত নয়, তবে আপনি চক্রবৃদ্ধি হারের সেই দুর্দান্ত জাদুকরি ধারণা থেকে সম্পূর্ণ দূরে রয়েছেন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কত টাকা দিয়ে শুরু করছেন, তা আসলে মোটেও গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং আপনি শুরু করছেন কি না এবং সেটি নিয়মিত ধরে রাখতে পারছেন কি না, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।


যত দ্রুত এবং যত অল্প বয়সে আপনি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের এই যাত্রা শুরু করবেন, ততই আপনি অন্যদের তুলনায় বহুগুণ এগিয়ে থাকবেন। বিনিয়োগের এই দর্শনের মূল শর্ত বিশাল কোনো অঙ্ক দিয়ে শুরু করা নয়; বরং যেকোনো ছোট অঙ্ক দিয়েই হোক না কেন, দ্রুত শুরু করা এবং সেই ধারাবাহিকতা আজীবন বজায় রেখে ম্যারাথনের মতো দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া।


এই আর্থিক যাত্রার শুরুতেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের দক্ষতা এবং আর্থিক শিক্ষার ওপর বিনিয়োগ করা। পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ হলো নিজের ওপর বিনিয়োগ করা—যে বিষয়ে ওয়ারেন বাফেটও সব সময় গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্য যেকোনো খাতে করা বিনিয়োগ, যেমন শেয়ারবাজার বা সম্পত্তিতে বিনিয়োগ, বেহাত হওয়ার ঝুঁকি থাকলেও নিজের দক্ষতার ওপর বিনিয়োগ কখনো হাতছাড়া হয় না।


আপনি যদি একটি নির্দিষ্ট দক্ষতার অধিকারী হন, তবে দুটি দক্ষতা থাকলে আপনার আয়ের সুযোগ আরও বেড়ে যাবে। ঠিক তেমনি একটি ভাষা জানার চেয়ে একাধিক ভাষা জানলে আয়ের সুযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। নিজের ওপর করা এই বিনিয়োগ সারা জীবন ধরে আপনাকে অনন্য প্রতিদান দিতে থাকে, যা অন্য কোনো খাত থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।


আপনার কাছে থাকা সীমিত বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের একটি অংশ দিয়ে ভালো কোনো বই কিংবা ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনার ওপর পেশাদার কোনো কোর্স কিনে নিতে পারেন। শেখার মানসিকতা সব সময় উন্মুক্ত রাখতে হবে এবং টাকা কীভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হয়, টাকা দিয়ে কীভাবে আরও টাকা আয় করা যায়, তা পেশাদার উপায়ে শিখে নিতে হবে। কারণ, সঠিক নির্দেশনা ও জ্ঞানের অভাবে টাকা অনেক সময় সমস্যার সমাধান করার চেয়ে আরও বেশি সমস্যা তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতি এড়াতে শেখার বিকল্প নেই।


যাঁদের শেয়ারবাজারে সরাসরি লেনদেন করার মতো পর্যাপ্ত সময় বা দক্ষতা নেই, তাঁরা মিউচুয়াল ফান্ড এবং এসআইপির ওপর ভরসা রাখতে পারেন। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশে অনেক খ্যাতিসম্পন্ন সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের ক্ষুদ্র সঞ্চয়গুলো পরিচালনা করছে। 

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও