বিশ্ববাজারে বাংলা সৃজনশীল বই : সম্ভাবনা, সংকট ও করণীয়

ঢাকা পোষ্ট কামরুল হাসান শায়ক প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩২

বাংলা বইয়ের বিশ্ববাজার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে প্রথমেই একটি প্রশ্ন সামনে আসে, আমরা কোন বাজারের কথা বলছি? বিশ্বের নানা দেশে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী পাঠক এক ধরনের বাজার; আর বাংলা না জেনেও অনুবাদের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য পড়তে আগ্রহী পাঠকের বাজার আবার ভিন্ন।


প্রথম বাজারটি আমাদের চোখের সামনেই আছে—কলকাতা, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ নানা অঞ্চলের প্রবাসী বাঙালিরা বাংলা বই খোঁজেন, কেনেন, পড়েন এবং সন্তানদের হাতে তুলে দেন। দ্বিতীয় বাজারটি এখনো তুলনামূলকভাবে ছোট; কিন্তু আন্তর্জাতিক সাহিত্যের মানচিত্রে বাংলা ভাষার বিস্তার ঘটানোর জন্য এর গুরুত্ব অনেক বেশি।


প্রবাসী বাঙালির বই পড়ার আগ্রহ কেবল আবেগের বিষয় নয়; তা ভাষা, স্মৃতি ও পরিচয়ের সঙ্গেও যুক্ত। বিদেশে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা বই মাতৃভাষার সঙ্গে সংযোগের একটি মাধ্যম। শিশু-কিশোরদের ছড়া, গল্প, রূপকথা, কমিকস ও দ্বিভাষিক বইয়ের চাহিদা তাই আলাদা করে বিবেচনা করা দরকার।


বড়দের জন্য রয়েছে উপন্যাস, কবিতা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম, দর্শন, রান্না, ভ্রমণ ও সমকালীন সমাজ নিয়ে বই। উত্তর আমেরিকা,অস্ট্রেলিয়া এবং ইউকে-তে বাংলা বই বিক্রির অনলাইন পোর্টাল যেমন রয়েছে, তেমনি নতুন কিছু উদ্যোগ বিশ্বের নানা দেশে বই পৌঁছে দেওয়ার কাজও করছে। এসব উদ্যোগ দেখায়, পাঠক আছে; প্রয়োজন তাদের কাছে নিয়মিত, নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ীভাবে বই পৌঁছানোর ব্যবস্থা।


তবে প্রবাসী পাঠক থাকা আর সুসংগঠিত আন্তর্জাতিক বাজার থাকা এক বিষয় নয়। অনেক জায়গায় বাংলা বইয়ের দোকান নেই, নতুন বইয়ের খবর পাঠকের কাছে পৌঁছায় না, আর বই অর্ডার করে পেতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগে।


প্রবাসী বইবাজার এখনো অনেকাংশে পরিচিতজন, সাংস্কৃতিক সংগঠন, মেলা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং অনলাইন বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। ফলে পাঠক বই পেতে পারেন, কিন্তু বইয়ের নির্বাচিত সংগ্রহ, দ্রুত সরবরাহ, স্থানীয় প্রচার ও নিয়মিত বিক্রির অবকাঠামো সব জায়গায় সমানভাবে নেই।


এই বাস্তবতা মাথায় রেখে প্রবাসী বাজারকে শুধু বই রপ্তানির বিষয় হিসেবে দেখলে চলবে না; বইয়ের বিপণন, বিতরণ, পাঠচক্র, গ্রন্থাগার এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন—সব মিলিয়ে একটি পাঠক-সম্প্রদায় গড়ে তুলতে হবে।


বাংলা ভাষার বাইরের পাঠকের কাছে পৌঁছানোর প্রধান সেতু অনুবাদ। বাংলা সাহিত্য দীর্ঘদিন ধরেই ভাব, ভাষা ও বিষয়বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ। কিন্তু সেই সম্পদের বড় অংশই বাংলা ভাষার ভেতরে সীমাবদ্ধ। ভালো অনুবাদ হলে আমাদের জীবন, সমাজ, ইতিহাস ও কল্পনার জগৎ অন্য ভাষার পাঠকের কাছে ব্যাপকভাবে উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে।


বাংলাদেশের লেখকদের গল্প নিয়ে ইংরেজিতে প্রকাশিত দ্য বুক অব ঢাকা: এ সিটি ইন শর্ট ফিকশন (২০১৬) [The Book of Dhaka: A City in Short Fiction, 2016]-এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। Comma Press-এর প্রকাশিত এই সংকলনে ঢাকা শহরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন লেখকের গল্প স্থান পেয়েছে; বইটি World Literature Today-এর ২০১৬ সালের উল্লেখযোগ্য অনূদিত বইয়ের তালিকায়ও অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।


এ অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গল্প শুধু বাংলাদেশের পাঠকের জন্য নয়—যথাযথ সম্পাদনা, অনুবাদ ও প্রকাশনা পেলে তা আন্তর্জাতিক পাঠকের কাছেও অর্থবহ হতে পারে।


তবে আন্তর্জাতিক পাঠক কেবল ‘বাংলাদেশের গল্প’ পড়তে চান, এই ধারণা যথেষ্ট নয়। তারা এমন সাহিত্য খোঁজেন, যা একদিকে নিজস্ব সমাজ ও সংস্কৃতিতে প্রোথিত, অন্যদিকে মানুষের সর্বজনীন অভিজ্ঞতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করে। দারিদ্র্য, প্রেম, বিচ্ছেদ, পরিবার, যুদ্ধ, অভিবাসন, স্মৃতি, ন্যায়-অন্যায়, ক্ষমতা, শহর ও গ্রামের রূপান্তর—এসব বিষয় নানা দেশের পাঠকের কাছেই পরিচিত।


পরিচিত বিষয়কে নতুনভাবে দেখানোর ক্ষমতাই সাহিত্যকে আলাদা করে। আমাদের লেখকেরা যদি কেবল বিদেশি পাঠকের রুচি অনুমান করে লেখেন, তাহলে লেখার স্বকীয়তা হারানোর ঝুঁকি থাকে। বরং নিজের বাস্তবতার গভীর ও শিল্পসম্মত বর্ণনা দিতে হবে; অনুবাদ ও সম্পাদনা সেই বাস্তবতাকে অন্য ভাষার পাঠকের কাছে বোধগম্য করে তুলবে।


বাংলা সৃজনশীল বইয়ের মান নিয়ে এক কথায় কোনো চূড়ান্ত রায় দেওয়া সম্ভব নয়। বাংলা সাহিত্যে শক্তিশালী লেখক, গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যকর্ম এবং বৈচিত্র্যময় বিষয়ভিত্তিক লেখার ঐতিহ্য রয়েছে। একই সঙ্গে বইয়ের সংখ্যা বাড়লেই সাহিত্যমান বাড়ে না। পাণ্ডুলিপি নির্বাচনের সতর্কতা, লেখকের পুনর্লিখনের সুযোগ, পেশাদার সম্পাদনা, তথ্য যাচাই, বানান ও প্রুফ সংশোধন, নকশা, কাগজ ও মুদ্রণের মান—সবকিছু বইয়ের সামগ্রিক গুণমান নির্ধারণ করে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও