সৌদি শ্রমবাজারে সংকট: সামনে বিকল্প কী
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাসংকট বাংলাদেশের অভিবাসন অর্থনীতির গভীর দুর্বলতা উন্মোচন করেছে। এখন প্রশ্ন শুধু কতজন কর্মী বিদেশে পাঠানো যাবে তা নয়; প্রশ্ন হলো, তাঁদের জীবন, বিনিয়োগ ও ভবিষ্যৎ কতটা সুরক্ষিত।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলা, ফ্লাইট বাতিল, শ্রমিকদের আটকে পড়া কিংবা ভিসার অনিশ্চয়তা—এসব শুধু সাময়িক ভ্রমণ বিঘ্ন নয়; বাংলাদেশের অভিবাসন অর্থনীতির জন্য সতর্কসংকেত। সৌদি আরব লাখ লাখ বাংলাদেশির কর্মস্থল, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেখানকার অস্থিরতার অভিঘাত এসে পড়ে বাংলাদেশের কর্মসংস্থান, গ্রামীণ অর্থনীতি ও জাতীয় আয়ে।
প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে কর্মসংস্থানের ছাড়পত্র গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কমেছে; সৌদি আরবে কমেছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক যাত্রীর যাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
এ সংকটের জন্য সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই একমাত্র দায়ী করা যাবে না। বরং এই পরিস্থিতি আমাদের এমন কিছু দীর্ঘদিনের নীতিগত ব্যর্থতা দেখিয়ে দিচ্ছে, যেগুলো স্বাভাবিক সময়ে সংখ্যার আড়ালে ঢাকা পড়ে থাকে। বাংলাদেশের অভিবাসন অর্থনীতি বড় হয়েছে, কিন্তু তার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কি একইভাবে পরিপক্ব হয়েছে?