মোদির শাসন অবসান হচ্ছে!

যুগান্তর ড. মাহবুব উল্লাহ প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:১৯

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে গণ-আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত হতে চলছে। মনে হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দুঃসহ শাসনের অবসান হতে চলেছে। ইংরেজি ভাষায় বলতে হয়, Modi's days are numbered. বাংলাদেশের একটি দৈনিকে ভারতের আন্দোলনের ওপর একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এটি লিখেছেন বিদ্যা কৃষ্ণণ। তিনি একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক, তিনি সামাজিক বিচার ও অধিকার বিষয়ে লেখালেখি করেন। এ লেখাটি আল জাজিরা থেকে নেওয়া হয়েছে এবং বাংলায় এর সংক্ষেপিত রূপ প্রকাশ করা হয়েছে।


বিদ্যা কৃষ্ণণ খুব চমৎকার একটি দৃষ্টান্ত দিয়ে তার লেখা শুরু করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘প্রবাদ আছে যদি একটি মুরগির গায়ের পালক এক এক করে উপড়ে ফেলা হয়, তবে চট করে কেউ তা টের পায় না। অনেকেই এ বিভ্রান্তিতে ভোগেন যে, ছোট ছোট অন্যায় বা অনিয়ম হয়তো কখনোই তাদের পেছনে তাড়া করে ফিরবে না। কিন্তু, এই কৌশলের প্রধান সমস্যা হলো, এক সুন্দর সকালে সব সত্য কোনোরকম ঢাক ঢাক গুড় গুড় ছাড়াই একদম উলঙ্গ রূপ নিয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়। এই অক্টোবরে ভারতের গণতন্ত্রকে সেই পালক ছেঁড়া মুরগির মতোই মনে হচ্ছে।’ আসলে কি তাই? নরেন্দ্র মোদির শাসনামলে যা ঘটেছে তাকে মুরগির ছেঁড়া পালকের সঙ্গে তুলনা করা যায় না। মোদির শাসনামলে সংঘটিত ঘটনাগুলো আরও অনেক বেশি ভয়াবহ এবং মারাত্মক। মোদি ভারতে হিন্দুত্ববাদী শাসন কায়েম করতে চেয়েছেন। এ শাসনে মুসলমান, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ও দলিত সম্প্রদায়ের কোনো অবস্থান নেই। মোদি সাভারকার-এর রাজনৈতিক দর্শন প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হয়েছিলেন। এ ধরনের রাজনৈতিক দর্শন সামাজিক সংখ্যালঘুদের কোনো ঠাঁই দেয় না। এদের সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়। আমরা জানি, আধুনিক গণতন্ত্রের অন্যতম লক্ষ্য হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা। কিন্তু মোদির শাসনামলে বর্ণ হিন্দু ছাড়া অন্যসব ধর্মানুসারীদের বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তাদের প্রার্থনার অধিকার, প্রার্থনালয়ে যাওয়ার অধিকার, বিষয়-সম্পত্তি ভোগ করার অধিকারসহ একজন সভ্য মানুষ যেসব অধিকার ভোগ করতে পারে, তা থেকে বর্ণ হিন্দু ছাড়া অন্যদের বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের পতনের পর বিজেপি শুভেন্দু ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছে। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর অনেক মসজিদে আজান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অনেক মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানকার বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের ধরে বেঁধে বাংলাদেশ সীমান্তের নো-ম্যান্স জোনে নিয়ে আসা হয়েছে এবং এদের জোর করে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে বিএসএফ। বিজেপির লক্ষ্য আরও সুদূরপ্রসারী। তারা ভারতকে মুসলিম জনগোষ্ঠীমুক্ত দেশে পরিণত করতে চায়। তারা বিশ্বাস করে, মুসলমানরা বিদেশ থেকে আসা, সুতরাং তাদের ভারতের মাটিতে থাকার কোনো সুযোগ নেই। তারা আরও বলে, পৃথিবীতে ৫৮টি মুসলিম রাষ্ট্র রয়েছে। মুসলমানদের এ দুনিয়াতে থাকার জায়গার অভাব নেই। কিন্তু হিন্দুদের দেশ মাত্র একটি। তা হলো ভারত। বিজেপি আরও বিশ্বাস করে অখণ্ড ভারত প্রতিষ্ঠার নীতিতে। বিজেপির বুদ্ধিজীবী ও কৌশলবিদরা প্রকাশ্যেই ঘোষণা করছেন, বাংলাদেশের রংপুর ও চট্টগ্রাম অঞ্চল তারা দখল করে নেবেন। বহু বছর ধরে স্বাধীন বঙ্গভূমির নামে বাংলাদেশকে টুকরো করে হিন্দুদের জন্য একটি পৃথক রাজ্য সৃষ্টির আন্দোলন চালিয়ে গেছেন কালিদাস বৈদ্য এবং চিত্তরঞ্জন ছুতার। ১৯৭১-এ শেখ মুজিবুর রহমান ছাত্রলীগের নেতাদের পাক আর্মির ক্র্যাক ডাউন হলে কলকাতায় গিয়ে ১০ রাজেন্দ্র নারায়ণ রোডে চিত্তরঞ্জন ছুতারের বাড়িতে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ কথা পরলোকগত ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ একাধিকবার বলেছেন। এখন এসব টুকরো কাহিনি একসঙ্গে করলে একটি পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেরই আভাস পাওয়া যায়। এ কথা তো ভারতের পার্লামেন্টে ইন্দিরা গান্ধীর নাতনি প্রিয়াংকা গান্ধী এক ভাষণে কবুল করে নিয়েছেন।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও