তিস্তা প্রকল্প কি ভূরাজনৈতিক খেলায় পরিণত হচ্ছে

প্রথম আলো নজরুল ইসলাম প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৪:৪৯

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সস্ত্রীক গত ৩০ আগস্ট লালমনিরহাট ও নীলফামারীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন। ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারাও এই দলে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। রাজধানী থেকে সুদূর তিস্তা এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সফর স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মনে কৌতূহলের উদ্রেক করেছে।


রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেনের পরিদর্শন তিস্তা ব্যারাজে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি সে এলাকার বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানও ঘুরে দেখেন। এর মধ্যে ছিল রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় প্যারাগন গ্রুপের প্যারাগন ডেইরি, পঞ্চগড়ে গ্রিন ফিল্ড টি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড এবং পার্বতীপুরে দেশের কেন্দ্রীয় ও বৃহত্তম রেলওয়ে কারখানা।

তিস্তা সফর এবং সাম্প্রতিক বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি 


বিজ্ঞজনদের অনেকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং অন্য পদস্থ কর্মকর্তাদের তিস্তা এলাকা সফরের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্প্রতি (৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে) স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির সম্পর্ক দেখছেন।


বহুল আলোচিত এ চুক্তির একটি সাধারণ প্রয়াস হলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য বাজারের সম্প্রসারণ। তার মধ্যে দুগ্ধজাত পণ্যের কথা এ চুক্তিতে উল্লেখিত হয়েছে। তবে এ বাজার শুধু পণ্যের নয়, বিভিন্ন ধরনের সেবার জন্যও প্রযোজ্য। নির্মাণকাজের ঠিকাদারি তার অন্যতম।


এ ক্ষেত্রে সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত বিরাট বাজেটসম্পন্ন প্রকল্পের ঠিকাদারির কাজ বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। এসব কাজ যাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোও পেতে পারে, তার প্রতি এ বাণিজ্যচুক্তিতে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।


স্বাভাবিকভাবেই এ প্রসঙ্গে তিস্তা প্রকল্পের কথা না এসে পারে না। বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির আলোকে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বাজেটের এ প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি আগ্রহী হয়, তাহলে তা বিস্ময়ের কিছু হবে না। কিন্তু তিস্তা প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারত-চীন ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশ নিঃসন্দেহে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করবে। প্রশ্ন হলো, জটিল এ পরিস্থিতি বাংলাদেশ কীভাবে সামাল দিতে পারবে?


তিস্তা নদী, ব্যারাজ ও সংকট


বিষয়টি বোঝার জন্য প্রথমেই তিস্তা নদী ও প্রকল্প সম্পর্কে কিছু তথ্য জানা থাকা দরকার। বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম নদী তিস্তা হিমালয়ের পাদদেশে ভারতের সিকিম রাজ্যে উৎপত্তি হয়ে পশ্চিমবঙ্গ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং কুড়িগ্রামের চিলমারীর কাছে যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়।


হিমালয়ের কাছে হওয়ায় এই নদী খরস্রোতা (ঢাল বেশি), হড়কা প্রবাহপ্রবণ, ঋতুভেদসম্পন্ন ও পলিবাহী। পলিবাহী ও ঋতুভেদসম্পন্ন নদী সাধারণত বিনুনি চরিত্রের হয়। কারণ, স্বল্প প্রবাহের ঋতুকালে পলিপতনের ফলে চর পড়ে এবং নদী তখন চরের আশপাশ দিয়ে বহু খাতে বিভক্ত হয়ে প্রবাহিত হয়। সে জন্য প্রবাহের তুলনায় বিনুনি নদী বেশি প্রশস্ত হয়।


নদ–নদীর প্রতি বাণিজ্যিক পন্থা অনুসরণে ভারত পাহাড়ি তিস্তার জলবিদ্যুৎ–সম্ভাবনা ব্যবহারের জন্য সিকিমে তিস্তা এবং এর বিভিন্ন উপনদীর ওপর বহু বাঁধ নির্মাণ করে। এদিকে বাংলাদেশের পানি কর্তৃপক্ষ তিস্তার মধ্যে সেচের সম্ভাবনা দেখে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য তিস্তার ওপর ব্যারাজ নির্মাণের কথা ভাবে।


ভারতের কর্তৃপক্ষও তিস্তার পানি ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে সেচ সম্প্রসারণে আগ্রহী হয় এবং সেই লক্ষ্যে ১৯৮৭ সালের মধ্যেই গজলডোবা ব্যারাজ নির্মাণ সম্পন্ন করে। বাংলাদেশ ব্যারাজের চিন্তাটি ভারতের আগে শুরু করলেও বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়ে এবং ১৯৯০ সালে ডালিয়াতে ব্যারাজ নির্মাণ সম্পন্ন করে।


কিন্তু ভারত থেকে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার কতটা প্রবাহ পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে কোনো চুক্তি ও নিশ্চয়তা ছাড়াই ডালিয়াতে ব্যারাজ নির্মাণ বাংলাদেশের জন্য খুব একটা সুবুদ্ধির পরিচায়ক হয় না; কারণ, উজান অবস্থানের সুযোগ নিয়ে ভারত ক্রমে সেচ এলাকা ও তিস্তা থেকে অপসারিত পানির পরিমাণ বৃদ্ধি করতে থাকে। ফলে ডালিয়া ব্যারাজের উদ্দেশ্য বহুলাংশে ভন্ডুল হয়ে যায় এবং এ ব্যারাজ বাংলাদেশের জন্য বরং একটি সমস্যায় পরিণত হয়।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও