পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার বর্ণনা বদলাবে, এবার যেভাবে থাকছে

প্রথম আলো প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৭

আগামী শিক্ষাবর্ষের (২০২৭ সাল) পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন আনছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কিত বর্ণনাও।


এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি সরকারের সময়ে পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা দাঁড়াচ্ছে তিন ধরনের।


আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩১ কোটি পাঠ্যবই ছাপা হচ্ছে। পরিমার্জন শেষে এখন ছাপার কাজ চলছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছুসংখ্যক বই ছাপাও হয়েছে।


২০২৭ সালের সপ্তম শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইয়ের প্রথম অধ্যায় ‘বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রাম ও গণ-আন্দোলন’। এ অধ্যায়ে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। একপর্যায়ে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভের কথা বলা হয়েছে।


স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনা সম্পর্কে বইটিতে বলা হয়েছে, ‘১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, চালায় হত্যাযজ্ঞ। পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক রাজারবাগ পুলিশ লাইনস আক্রান্ত হলে পুলিশ লাইনস বেইজ হতে আক্রমণের সংবাদ তারবার্তার মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয় ঐ রাতেই। দেশের মানুষ নেতৃত্বশূন্যতায় দিশেহারা ও হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার খবর জেনে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড মেজর জিয়াউর রহমান “উই রিভল্ট” বলে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ করেন। তারপর রাত ২টা ১৫ (২৬শে মার্চ) মিনিটে ব্যাটালিয়নের সব বাঙালি অফিসার ও সৈনিকদের একত্র করে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ শুরুর ঘোষণা দেন। এ ঘোষণার পর আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র স্থাপিত হলে মেজর জিয়াউর রহমান ২৭শে মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও লিবারেশন আর্মির সর্বাধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার এই ঘোষণার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের কথা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রেডিওর মাধ্যমে তিনি আরেক ঘোষণায় শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশ লিবারেশন আর্মির অস্থায়ী সর্বাধিনায়ক হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা মুক্তিপাগল বাঙালিকে স্বাধীনতার দীপ্তমন্ত্রে উজ্জীবিত করে। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। শেষ পর্যন্ত ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জনযুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমে পাকিস্তানিদের ২৪ বছরের শোষণ আর বৈষম্যের অবসান ঘটে। ত্রিশ লক্ষ শহিদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।’

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও