রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউগিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা চালাতে এক কোটি টাকা দিয়ে ‘সন্ত্রাসী বাহিনী’ ভাড়া করা হয়। ভাষানটেক থানা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ইব্রাহিম টাকার বিনিময়ে লোক পাঠিয়ে প্রকল্পে হামলা করেন। হামলায় মিরপুরের মামুন বাহিনীর লোকজনকেও যুক্ত করা হয়েছিল।
এই হামলা মামলায় গ্রেপ্তার শাহরিয়ার মাহমুদ ও বিকাশ চন্দ্র সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, ঘটনার দিন দুপুরে ১৩ জন মিলে ইসিবি চত্বরের একটি খাবারের দোকানে বসে হামলার পরিকল্পনা করেন। সেখানে শাহরিয়ার ও বিকাশ উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তারের পর শাহরিয়ার ও বিকাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, শাহরিয়ারকে লোক ভাড়া করে হামলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পেয়ে তিনি ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের তালিকায় তাঁর নাম ‘কিলার ইব্রাহিম’। আবাসন প্রকল্পটির একটি ফটক ভেঙে দেওয়ার জন্য ইব্রাহিমকে এক কোটি দেওয়ার কথা ছিল শাহরিয়ারের।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, শাহরিয়ার জিজ্ঞাসাবাদে ইব্রাহিমের সঙ্গে যোগাযোগের কথা স্বীকার করেছেন। ইব্রাহিম তাঁর অনুসারী যুবরাজকে এই হামলার জন্য লোক জোগাড়ের দায়িত্ব দেন। যুবরাজ লোক জোগাড় করেন। তাঁরা আবাসন প্রকল্পটিতে হামলা চালান।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলার সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ভাঙচুর–লুটপাট করা হয়। রাতেই ঘটনার বিবরণ দিয়ে তিনি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।