আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস : স্কুলের ঘণ্টা শেষ পর্যন্ত বাজুক

ঢাকা পোষ্ট মিঠুন বৈদ্য প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩৫

সেদিনও স্কুলের ঘণ্টা বেজেছিল। সপ্তম শ্রেণির মেয়েরা প্রতিদিনের মতো ক্লাসে ঢুকেছিল। কেউ খাতা খুলছিল, কেউ আগের দিনের অঙ্ক মিলিয়ে নিচ্ছিল, কেউ বন্ধুর সঙ্গে ফিসফিস করে কথা বলছিল। শুধু সবিতার (ছদ্মনাম) বেঞ্চটা খালি ছিল। অঙ্কের স্যার প্রথম দিন খুব একটা গুরুত্ব দেননি। ভেবেছিলেন, হয়তো অসুস্থ।


পরদিনও যখন সবিতা এলো না, তিনি জানতে চাইলেন, ‘সবিতা কোথায়?’ সহপাঠীদের মাঝ থেকে উত্তর এলো, বাড়িতে মেহমান এসেছে। কয়েক দিন পর আবার জিজ্ঞেস করলে কেউ একজন বলল, ‘ওর বিয়ে হয়ে গেছে।’ যে মেয়েটি ক্লাসে কঠিন অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন করলেই উত্তর দেওয়ার জন্য সবার আগে যার হাত উঠতো, তার হাতে তখন মেহেদি।


যে খাতায় সে ‘x’-এর মান নির্ণয় করত সেই খাতার জায়গায় এসেছে সংসারের হিসাব। আর যে স্কুলের ঘণ্টা প্রতিদিন তাকে ক্লাসে ডাকত, সেই ঘণ্টা সেদিনও বেজেছিল তবে সেটি শুধু সবিতার জন্য নয়।


সবিতা কাল্পনিক নাম হলেও গল্পটি কিন্তু কাল্পনিক নয়। বাংলাদেশের কোনো একটি গ্রাম, চরাঞ্চল বা সুন্দরবনসংলগ্ন কোনো জনপদে কিংবা শহরের প্রান্তিক কোনো বসতিতে হয়তো এই মুহূর্তেও এমন একটি মেয়ে আছে, যে জানে না তার আগামী সপ্তাহের ক্লাসটি সে করতে পারবে কি না।


হয়তো তার বাবা-মা তাকে ভালোবাসেন, তার জন্য ভালো কিছুই চান, তার নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা করেন। তবু সেই পারিপার্শ্বিকতার নিরিখে এই ভালো চাওয়ার ভেতরেই এমন একটি সিদ্ধান্ত তৈরি হচ্ছে, যা মেয়েটির নিজের ভবিষ্যৎ বেছে নেওয়ার সুযোগটুকুও কেড়ে নিতে পারে।


বাবা ভাবছেন, ভালো পাত্র হাতছাড়া হলে আর পাওয়া যাবে না। মা ভাবছেন, মেয়েটা অন্তত নিরাপদে থাকবে। আত্মীয়রা বলছেন, সময় থাকতে মেয়েটাকে পার করে দাও, আবার সমাজ বলছে, এটাই তো নিয়ম। কিন্তু এতসব দাবি, মান্যতা আর ভয়ের মাঝে মেয়েটি নিজে আসলে কী চায় সেই বিষয়টিই কোথাও যেন হারিয়ে যাচ্ছে।


বাল্যবিবাহের সবচেয়ে কঠিন দিকটি এখানেই যে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি আসে নিরাপত্তা, দরিদ্র্যতা, সামাজিক চাপ, উপযুক্ত পাত্র হারানোর ভয় থেকে কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকে। কিন্তু কারণ যাই হোক, এই ভয় একটি মেয়ের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি গ্রহণের অধিকার ছিনিয়ে নেয়। তার পড়াশোনা থেমে যেতে পারে, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে, অল্প বয়সেই মাতৃত্বের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি এমন একটি দাম্পত্য সম্পর্কে তাকে প্রবেশ করতে বাধ্য করে যার জন্য সে মানসিকভাবে প্রস্তুতই নয়।


সবিতার গল্পটি যদি শুধু একটি গল্প হতো, তাহলে হয়তো আমরা পড়ে কিছুক্ষণ কষ্ট পেতাম, তারপর ভুলে যেতাম। কিন্তু সমস্যা হলো, সবিতার মতো মেয়েদের গল্প আমাদের চারপাশে এতটাই দৃশ্যমান যে সেগুলো আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে পার পেয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই কারণ এটি একটি জাতীয় বাস্তবতা।


বিবিএস ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের প্রথম বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। অর্থাৎ সবিতার শ্রেণিকক্ষে যদি ছাত্রীদের গুনে দেখা হয় তাহলে স্কুলের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাত্রীরা হয়তো ক্লাসের পেছনের সারির কয়েকটি বেঞ্চ হয়ে সামনে এসে দাঁড়াবে। ক্লাসের বাকি সহপাঠীরা হয়তো বুঝতেও পারে না, কেন তাদের বান্ধবীরা আর ক্লাসে আসে না।


২০১৯ সালে এই হার ছিল ৫১ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ অগ্রগতি হয়েছে কিন্তু সেটাতে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার কোনো সুযোগ নেই। কারণ একই ২০২৫ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS) তে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী মেয়েদের ৩৮ দশমিক ৯ শতাংশকে বর্তমানে বিবাহিত পাওয়া গেছে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও