কবি সুকান্তের জন্মশতবর্ষ ও কিছু জিজ্ঞাসা

www.ajkerpatrika.com মামুনুর রশীদ প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭

বেশি দিন আগের কথা নয়, এক দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক খুব আন্তরিকভাবেই আমাকে প্রশ্ন করলেন, বলুন তো কবিতার বই বিক্রি হয় না কেন? আমি জবাবে বলেছিলাম, এটি সাহিত্যের জন্য খুব খারাপ লক্ষণ। পাঠক যদি কবিতা পছন্দ না করে সে এক মারাত্মক পূর্বাভাস। আর আজকেই একজন প্রকাশকের কাছে জানতে পারলাম, গত দু-তিন বছরে সব ধরনের বই বিক্রি ভয়াবহভাবে কমে গেছে। তার মধ্যে কবিতা তো আছেই। একমাত্র বিক্রি হয় ধর্মীয় পুস্তক। কখনো কখনো তা টাকা দিয়েও কিনতে হয় না। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুইবার বইমেলা নিয়ে যে রকম খেলা হয়েছে, তাতে প্রকাশকেরা এমনভাবে আক্রান্ত হয়েছেন যে লাখ লাখ টাকা তাঁদের পকেট থেকে বেরিয়ে গেছে।


বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর বইয়ের প্রতি মানুষের একটা আকর্ষণ বেড়েছিল। সব ধরনের বই যেমন কবিতা, গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, জীবনী ইত্যাদি বইয়ের বিক্রি বেড়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন জেলা শহরে বইমেলা হতো, সেখান থেকেও প্রকাশকেরা খালি হাতে ফিরতেন না। একুশের বইমেলা বর্ধমান হাউসের চারপাশে ছোট্ট পরিসরে শুরু হলেও তা একসময় তার ব্যাপ্তি রমনা পার্ক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। বইমেলার ভিড় এমন পর্যায়ে চলে যায়, তা সামাল দিতে রীতিমতো পুলিশ বাহিনীকে মোতায়েন করতে হয়। স্টল-প্যাভিলিয়নে এবং ছোট ছোট দোকানে ভরে যায় মেলা প্রাঙ্গণ। কোটি কোটি টাকার একটা বিপণন তৈরি হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের বইবিষয়ক খেলাটা অনেকাংশেই সফল হয়। আগামী দু-তিনটি বছরও মেলার সময় রমজান মাস থাকবে ও মার খাওয়া প্রকাশনাশিল্প আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। শোনা যাচ্ছে, আগামী বইমেলাটা জানুয়ারি মাসেই অনুষ্ঠিত হবে। ভালো কথা। কিন্তু একুশের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বইমেলা তাতে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হবেই।


প্রকাশনাশিল্প কিছু কিছু ক্ষেত্রে ডিজিটালের কাছে কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বইয়ের বিষয়টি নানাভাবেই বেঁচে ছিল। কিন্তু এর মধ্যে ঢুকে গেছে নানা ধরনের রাজনীতি। মানুষের সৌন্দর্য চেতনার একটা বড় শিল্প কাব্য। কাব্য দিয়েই আমরা পৃথিবীর সৌন্দর্যকে দেখতে পেয়েছি। বাংলা কবিতার উৎসস্থল চর্যাপদ এবং মঙ্গলকাব্যের পথ ধরে এই বিংশ শতাব্দীতে আধুনিক বাংলা কবিতার জন্ম হয়। মাইকেল মধুসূদনের হাত ধরে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল এবং আরও তিনজন গীতি কবি ডি এল রায়, রজনীকান্ত সেন ও অতুলপ্রসাদের হাত ধরে তরতর করে এগিয়ে যায় এবং পরবর্তী সময়ে অসংখ্য কবির জন্ম হয়। বাংলা কবিতা এতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে পরে কথিত কবিদের ছাড়াও জীবনানন্দ দাশ এবং তিরিশের কবিদের সুখ্যাতি এবং প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে বাংলার মানসভূগোলে। সেই সময়ে সাহিত্য রচনায় কবিদের প্রভাব ব্যাপকভাবে দেখা যায়।

এই সময়ে ১৯২৬ সালে এক শিশুর জন্ম হয়। তাঁর নাম সুকান্ত ভট্টাচার্য। তাঁর কাব্যে গণমানুষকে দেখা যায় নিবিড়ভাবে। এই কবি কিশোর বয়স থেকেই কবিতা লিখে পাঠকের কাছে একটা বড় ধরনের প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম হন। একদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, অন্যদিকে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির উত্থান এবং সমাজের অসাম্য—এসব নিয়েই তাঁর কবিতার যাপন। এমন সব উপমা তিনি তাঁর কাব্যে ব্যবহার করেছেন যাতে পাঠক বিস্মিত হয়েছেন। যেমন পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি। পূর্ণিমার চাঁদকে তিনি ঝলসানো রুটি ভেবেছেন, যা দেখতে যতই সুন্দর হোক না কেন, মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনি নানা কাব্যসম্ভারে বাংলা কবিতার একটি ভিন্ন ধারার উন্মোচন করেন সুকান্ত ভট্টাচার্য। অসাম্যের বিরুদ্ধে কবিতা যেমন মানুষকে প্রভাবিত করে, তেমনি শ্রেণিসংগ্রামের কবি হিসেবে তিনি দ্রুতই বাংলা কাব্যে প্রবেশ করেন। এতকালের সৌন্দর্য চেতনার রীতিনীতিকে ভেঙেচুরে তিনি অসাধারণ সব কাব্য রচনা করেন, যা তখনকার প্রেক্ষাপটে দ্রুতই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও