মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছেন ট্রাম্প!

যুগান্তর আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬

ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা। তিনি অত্যন্ত আশঙ্কার মধ্যে আছেন-আর মাত্র ২৩ দিন পর ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয়ের ও নিয়ন্ত্রণ হারানোর। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদি কার্যকালের ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনই ‘মিডটার্ম’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন। অত্যন্ত প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ তার রিপাবলিকান দল যথাসাধ্য চেষ্টা করা সত্ত্বেও তারা মোটামুটি নিশ্চিত, আগামী দুই বছরের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ আর তাদের হাতে থাকবে না। হাউজ স্পিকার মাইক জনসন তার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন, রিপাবলিকান পার্টি যদি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। ডেমোক্রেটরা নিয়ন্ত্রণ পেলে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে যেতে পারেন। তবে ফক্স নিউজের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি হাউজে সংখ্যালঘু নেতা হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেননি। অন্যান্য রিপাবলিকানের কথাবার্তায়ও অনেকটা স্পষ্ট, কংগ্রেসে তারা সংখ্যালঘু দলে পরিণত হওয়ার জন্য প্রস্তুত; অর্থাৎ ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগেই তারা তাদের পরাজয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত।


যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নির্বাচন এটি। আমেরিকান কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ ‘হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভ’ বা প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যদের দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের ঠিক মধ্যবর্তী সময়ে এ নির্বাচনে হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের সদস্য বা সিনেটরদের মেয়াদ ৬ বছর। সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে এবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩৫টি আসনে। পাশাপাশি ৩৬টি অঙ্গরাজ্যের গভর্নরদের নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে ৩ নভেম্বর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের গতিপথ নির্ধারণসহ নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে মধ্যবর্তী নির্বাচন। এ নির্বাচনকে দেখা হয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের গৃহীত নীতি এবং সেসব নীতি বাস্তবায়নের প্রতি আমেরিকান জনগণের সমর্থন বা জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের সূচক হিসাবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, সেসবের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ তার ওপর সন্তুষ্ট নাকি অসন্তুষ্ট, তা ফুটে উঠবে এ নির্বাচনের ফলাফলে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন দলের হাত থেকে বিরোধী দলের হাতে চলে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর ভূরিভূরি দৃষ্টান্ত রয়েছে, যা ক্ষমতার ভারসাম্য এবং প্রেসিডেন্টের নীতি বাস্তবায়নে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।


যুক্তরাষ্ট্রসহ সমগ্র বিশ্ববাসীর দৃষ্টি এখন ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদকালের অর্ধেক সময় শেষ হওয়ার আগেই তার একটির পর একটি খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্তে আমেরিকান জনগণ হাঁপিয়ে উঠেছে; এক অর্থে বলা যায়, সাধারণ মানুষ তার প্রতি বীতশ্রদ্ধ, চরম ক্ষুব্ধ। জ্বালানিসহ নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির প্রয়োগে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের ঘোষিত যুদ্ধ বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলেছে সমগ্র অভিবাসী কমিউনিটিকে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের কাছে ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ। ভোটারদের এ উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ মূল্যস্ফীতি। আরও উদ্বেগ হিসাবে এসেছে ইরানের বিরুদ্ধে গত সাড়ে সাত মাস ধরে পরিচালিত যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সর্বব্যাপী প্রভাব।


যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, ভোগ্যপণ্যের মূল্যসূচক গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই অনেক বেড়েছে। সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৪ শতাংশে। খাবারের দাম ২.৭ শতাংশ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ১৬.৩ শতাংশ। দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ অনুভব করছেন আমেরিকান নাগরিকরা। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের জন্য। ট্রাম্পের একরোখা ও গণবিরোধী নীতি রিপাবলিকান পার্টিকে বাধ্য করছে জনপ্রিয়তা হারাতে; যা মানবিক মূল্যবোধ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত ন্যায়-নীতির পরিপন্থি বলে দাবি করছেন সাধারণ মানুষ। সবকিছু মিলিয়ে আমেরিকানরা পরিত্রাণ চায় শ্বাসরুদ্ধকর এমন অবস্থা থেকে।


মধ্যবর্তী নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা তাদের নিজস্ব মূল্যায়ন ও বিভিন্ন জরিপ ফলাফল বিশ্লেষণে প্রায় নিশ্চিত করেই উপসংহার টানছেন-নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ যে ডেমোক্রেটদের হাতে চলে যাবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প একজন অস্থির প্রেসিডেন্ট। জনমত জরিপে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা এখন তার পূর্বসূরিদের তুলনায় সবচেয়ে নিচে। ডেমোক্রেটরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের যে কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিলে তা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতি বাস্তবায়ন ও ক্ষমতার ভারসাম্যে। কংগ্রেসের নজরদারি বাড়বে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর। কংগ্রেসে আইন প্রণয়ন, সরকারের বাজেট নির্ধারণ এবং হোয়াইট হাউজের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি করবে ডেমোক্রেটরা। সব মিলিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটরা মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিতে। পর্যবেক্ষকরা পূর্বাভাস দিতে শুরু করেছেন, হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভে ডেমোক্রেটদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের ২৩৪টি আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর বিপরীতে রিপাবলিকানরা আসন পাবে ২০১টি। হাউজে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ২১৮টি আসন। রিপাবলিকানরা ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল ২২০-২১৫ ব্যবধানে। হাউজের নিয়ন্ত্রণ পেতে হলে ডেমোক্রেটদের মাত্র ৩টি আসন বাড়াতে হবে। ট্রাম্পের অনেক গণবিরোধী নীতির কারণেই যে তার দল হাউজে কাঙ্ক্ষিত ফল পাবে না এবং ডেমোক্রেটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো সমস্যা হবে না, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন

প্রতিদিন ৩৫০০+ সংবাদ পড়ুন প্রিয়-তে

আরও